ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জে খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

author
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৩
ad003
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া। গত মঙ্গলবার তিনি এই টাকা সরকারি কোষাগাওে জমা দেন। তাঁর এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সকল মহলের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলায় তিনটি খাল পুনঃ খনন প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তিনটি খালের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। পুনঃখননকৃত তিনটি খাল হচ্ছে আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাখালি থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত, আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগরীসার পর্যন্ত এবং দগরীসার থেকে লাউয়াসার পর্যন্ত। 

এই তিনটি খাল পুনঃখননে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সরকারী বরাদ্ধ থাকলে কাজের নির্ধারিত মান বজায় রেখে খাল তিনটি পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা। বাকি অব্যয়িত প্রায় ৬৪ লাখ  টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগের  নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া। তাঁর এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সকল মহলের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাখালি থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত, আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগরীসার পর্যন্ত ও দগরীসার থেকে লাউয়াসার পর্যন্ত উপজেলার এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৯২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মোট সাড়ে  ৬  কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং খালের পাড়ে দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি জমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোঃ শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আলমাস উদ্দিন  জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। কাজের গুণগতমান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। একই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। প্রায় তিন মাসব্যাপী খনন কাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপরও ৬৪ লাখ  টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ গত মঙ্গলবার  সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম  মিঠু বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর টাকা ফেরত গেছে এমন ঘটনা আমরা খুব একটা শুনি না। ইউএনও  দেখিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব। আমরা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

উপজেলা  বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন  বলেন, রাজনীতি যার যার জায়গায় থাকলেও ভালো কাজের প্রশংসা করতেই হবে। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে অব্যয়িত টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ অন্য উপজেলা গুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া  বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে মান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যয় করেছি। কাজ শেষ হওয়ার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT