ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকার ইজারা, তবুও নিরাপদ জেটি নেই; বর্ষায় বাড়ে দুর্ভোগ

author
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৪
ad003
প্রতিবছর কক্সবাজারের ৬ নম্বর ঘাট ও বিআইডব্লিউটিএর নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার ইজারা আদায় হলেও কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য এখনো গড়ে ওঠেনি একটি আধুনিক ও টেকসই জেটি। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নৌযানে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

কক্সবাজার-মহেশখালীর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই নৌপথ। প্রতিদিন শিশু, নারী, বয়স্ক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও অসুস্থ রোগীসহ হাজারো মানুষ সি-ট্রাক, স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযানে যাতায়াত করেন। কিন্তু নিরাপদ জেটির অভাবে নৌযানে ওঠানামার সময় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ায় সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না থাকায় দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে দ্বীপবাসীর মধ্যে।

সম্প্রতি টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এই বর্ষা মৌসুমে বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ কোন নোটিশ ছাড়াই  বারংবার সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছে মহেশখালীবাসী। 
এরপর থেকেই নিরাপদ ও আধুনিক জেটি নির্মাণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. মো. সুজাউদ্দীন ফারুক সোহান বলেন, "বউ-বাচ্চা নিয়ে কক্সবাজার গেলে আমিও এই পথেই সি-ট্রাকে যাতায়াত করি। উন্নয়নের এ সময়ে মহেশখালীর মানুষের পারাপারে এমন ঝুঁকি ও দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর। দ্রুত একটি নিরাপদ ও আধুনিক জেটি নির্মাণের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত।"

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কক্সবাজার ঘাটে দ্রুত একটি আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই জেটি নির্মাণ অথবা বিদ্যমান জেটির জরুরি সংস্কার করা হলে মহেশখালীর লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। একই সঙ্গে যাত্রী পারাপার হবে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

মহেশখালীবাসীর প্রত্যাশা, কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT