ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জামায়াত এমপি নজরুলের তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফাঁস

বিয়ে’ বিতর্ক: কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী বক্তব্য এবং বায়োডাটা ঘিরে নতুন মোড়

author
মোঃ আ‌তিয়ার রহমান,খুলনা

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৪
ad003
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাতক্ষীরা সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বলে দাবি করেছেন। 

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হোটেলে তরুণীসহ আটক হওয়ার পর ওই জামাত নেতা এমপি গাজী নজরুল বলছেন"আমি একবারই ওকে নিয়ে হোটেলে আসছি বিশ্বাস করেন। হোটেল আমি ভাড়া করিনি আমার ড্রাইভার ভাড়া করেছে। দুই হাত জড়ো করে মাপ চাওয়ার ভঙ্গিতে বলছেন আমি অন্যায় করেছি। আমাকে ছেড়ে দেন বাবা ‌। এ সময় ওই ভিডিওতে কিছু যুবককে ওই তরুণীকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়।  তখন ওই তরুণীর নাম জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন আমার নাম মাহিয়া।

 তারপর ওই তরুণী সব ভিডিও ডিলিট করতে অনুরোধ করেন। তারপর সব বলবো বলে জানান, বললেও যা হবে না বললেও তাই হবে। এ নিয়ে তো ঝামেলা করবেন এটাই তো জানি। তখন ওই তরুণী তার বাসা মিরপুর বলে দাবি করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তরুণীর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর সম্পর্কে জানতে চাইলে জামাত এমপি কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আমার সাথে তার স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক।

দ্বিতীয় বিয়ে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপি, তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শ্বশুরের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী ও ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য পাওয়া গেছে।

তবে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামকে নিয়ে নতুন একটি বিষয় সামনে এসেছে। সেটি হলো তাদের দুজনের বয়সের ব্যবধান। এমপি নজরুলের সঙ্গে ওই নারীর বয়সের পার্থক্য ৫৭ বছর।
বিয়ের কাবিননামার তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম জন্ম ১৯৫১ সালের ২১ মে।
আর তার কথিত স্ত্রীর জন্ম ২০০৮ সালের ২২ মে। হিসাব মতে তাদের বয়সের পার্থক্য ৫৭ বছর।

দেশব্যাপী যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ওই বায়োডাটায় উল্লেখ রয়েছে, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণীর পাশাপাশি তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে স্পষ্ট লেখা রয়েছে-তিনি ‘অবিবাহিত’।

এমপির সুপারিশ: ছড়িয়ে পড়া সেই বায়োডাটায় আরো দেখা যায়, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে তাতে জোর সুপারিশ করে স্বাক্ষর করেছেন।

এদিকে তরুণীর সাথে জামাত এমপি ভিডিও ভাইরালের পর ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই সাবেক এমপিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ঘুরপাক খাচ্ছে। 

এদিকে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ওই তরুণীর মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ১৭ জুন মগবাজারে তার নিজস্ব কার্যালয়ে এমপি নজরুল ইসলামের সাথে তার মেয়ে মরিয়ম আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৩ জুলাই এমপি ও তার পরিবার তার কার্যালয়ে বিশ্রামের সময় ভিডিওটি গোপনে ধারণ করা হয়। তিনি এই ষোড়যন্ত্রের জন্য তার সাবেক সহকারী ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করেন।

গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সাথে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমার স্বামীর সাথে মরিয়মের বিয়ে হয়েছে। এটা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, আমি সেটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের অসত্য প্রচার থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক ভিডিওতে বলেন, গত ১৩ জুলাই এমপি সাহেবকে নিয়ে যে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে আমাদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। গত ১৭ জুন মঙ্গলবার আমার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সাথে এমপি সাহেবের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার প্রথম স্ত্রীসহ আমরা উভয় পরিবারের সকলে উপস্থিত ছিলাম।

এদিকে বিতর্কের বিষয়ে দেশবাসীর কাছে এই ঘটনা সম্পর্কে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম ভিডিতে বলেন , আমি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ১৭ জুন শ্যামনগরে আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও যোগ করেন, গত ১৩ জুলাই দুই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যাওয়া একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক সফর ছিল। সেখানে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয় এবং আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মানহানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। এটা থেকে বিরত না থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT