ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান

author
কালিগঞ্জ ( ঝিনাইদহ ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৭
ad003
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম আসামির জামিন আবেদন শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে মোস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রীর নামে অর্জিত সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। পরে দুদক তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ চেয়ে নোটিশ দেয়। নোটিশের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট ৩ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৮৫১ টাকার সম্পদের তথ্য দাখিল করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই সম্পদের মধ্যে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ১৯১ টাকা ব্যাংক ঋণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। ঋণের অর্থ বাদ দিলে তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮২ টাকা।

এদিকে তিনি ও তার স্ত্রীর নামে বৈধ আয়ের পরিমাণ দেখান ১ কোটি ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ব্যয় হিসেবে দেখানো হয় ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮২৯ টাকা। ফলে বৈধ সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪২৭ টাকা। কিন্তু অর্জিত সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৪ টাকার কোনো বৈধ উৎসের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনুর বেগমের নামে বৈধ আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সম্পদ বিবরণীতে ১৭ লাখ ৫৪০ টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগও উঠে আসে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনুর বেগমকে অভিযুক্ত করে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য যশোরের বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার এড়াতে মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলাটি বর্তমানে যশোরের বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT