ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ডাকুসুর ভিপি প্রার্থীর উপর ‘মব’ এর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বরাবর আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জালাল আহমদ। একই সাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
আজ ২২ জুলাই(২০২৬) বিকেলে বুধবার উপাচার্য কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কর্তৃক লিখিত ওই আবেদনে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জালাল আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ আগস্ট (২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ওই শিক্ষার্থীর ওপর মবের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গত ৩১ আগস্ট হলের আবাসিক শিক্ষক মোহাম্মদ আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি তিনি মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ (প্রভোস্ট) বরাবর প্রতিবেদনটি পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও কোনো সাড়া পাননি।
আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেলে ঘটনাটি সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি পাওয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
মবের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র জালাল আহমদ সাংবাদিকদের জানান, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের ৪৬২ নাম্বার রুমে আমি বৈধ ছাত্র হিসেবেই থাকতাম।অপরদিকে আমার রুমমেট অবৈধভাবে থাকতো।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে অবৈধ ও বহিরাগত শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার দাবিতে উকিল নোটিশ পাঠানোর খবর শোনে ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমাকে মারতে গিয়ে আমার রুমমেট রবিউল ইসলাম নিজেই আহত হন । পরে আমি তাকে ছুরি আঘাত করেছি বলে ফেসবুকে গুজব ছড়ান মব সন্ত্রাসীরা। আমাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় মব সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে ।
তিনি আরো বলেন, ”উক্ত ঘটনার কোন তদন্ত না করেই আমাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয় । পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না! তাই আজকে ভিসি স্যারকে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছি। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি হলের ও বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে আসছি।”