ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অজু করে মসজিদে প্রবেশ, মুহূর্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন হুসেন আলী

author
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৩ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৬
ad003
যে মানুষটি বছরের পর বছর মানুষকে আযানের মাধ্যমে মসজিদে ডাকতেন, শেষ পর্যন্ত তার নিজের বিদায়ও হলো মসজিদের ভেতর থেকেই। অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন সখীপুর উপজেলার জিতাশ্বরী দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা হুসেন আলী (৭২)। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরই মসজিদের ভেতরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শেষ হয়ে যায় তার দুনিয়ার সফর।

স্থানীয়রা জানান, গত ২২ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি জিতাশ্বরী বাজার জামে মসজিদে যান। অজু সম্পন্ন করে মসজিদে প্রবেশের মাত্র ১-২ মিনিটের মধ্যেই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত এগিয়ে এলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আজ (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় জিতাশ্বরী দক্ষিণ পাড়া আল-মদিনা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে দাফন করা হয়।

মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ইউসুফ কবির জানান, বয়সের ভার সত্ত্বেও হুসেন আলীর দ্বীনের প্রতি আগ্রহ ছিল অসাধারণ। প্রায় চার বছর ধরে তিনি কোরআন শিক্ষা করছিলেন এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ৬ পারা কোরআন দেখে সাবলীলভাবে তিলাওয়াত করতে পারতেন।

জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাবলিগ জামাতের দ্বীনি মেহনতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ৪০ দিনের চিল্লাসহ বিভিন্ন দ্বীনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি এলাকার একটি মসজিদে দীর্ঘদিন আযান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও এর বিনিময়ে কখনো কোনো হাদিয়া বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি।

গ্রামবাসীর কাছে তিনি ছিলেন একজন সাদাসিধে, দ্বীনপ্রাণ ও বিনয়ী মানুষ। যে মানুষটি সারা জীবন মানুষকে নামাজের জন্য ডেকেছেন, কোরআন শেখার চেষ্টা করে গেছেন এবং নিঃস্বার্থভাবে মসজিদের খেদমত করেছেন—তার শেষ বিদায়টিও হলো আল্লাহর ঘরেই। তার মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT