তিন ভাইয়ের মধ্যে ফারুক আহমদ (৪৫) সবার বড়। ছোট দুই ভাইয়ের একজন দুবাই প্রবাসী অপরজন পর্তুগালে থাকেন। পরিবার ও অন্যান্য কাজে আর্থিক ভাবে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে স্থানীয় এক সুদুরীর কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা সুদে আনেন। সুদের টাকা মাঝে মধ্যে পরিশোধ করলেও সুদুরির বেশ পাওনা জমে যায়। এনিয়ে প্রায় সময়ই সুদুরীর সাথে বিবাদ হতো। গত দুই তিন দিনে এ নিয়ে বেশ ঝামেলা হয়। মারধরের স্বীকারও হন তিনি। পরে বুধবার বিকেলে বাড়িতে কীটনাশক পান করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মৌলভীবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার আরো অবনতি হলে সেখান থেকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীরচক গ্রামের মো. ইছাক উদ্দীন তিন ছেলের মধ্যে ফারুক আহমদ সবার বড়। অস্ট্রেলিয়া যাওয়া ও পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি বেশ ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় এক সুদুরীর কাছে থেকে বছরখানেক আগে ১ লক্ষ টাকা সুদে আনেন। সুদে টাকা আনতে গিয়ে ওই সুদুরী একটি চেক, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও কিছু কাগজপত্র রাখেন। লাভের টাকা দিয়ে আসলেও বেশ কিছু টাকা জমে যায় সুদুরীর। এ নিয়ে স্থানীয় ওই সুদুরী বেশ কিছু দিন থেকে চাপ দিয়ে আসছিল।
নিহত ফারুক আহমদের মাতা আজিজুন নেছা জানান, “গত দুই দিন আগে তার ছেলের মাথায় আঘাত দেখতে পান। এসময় তাকে কোথায় আঘাত পেয়েছে জানতে চাইলে ওই সুদুরী তাকে মরধর করেছে বলে জানায়। পরের দিনই (বুধবার) বিকালে সুদের টাকার জন্য আবারো ফোন দেয় তাকে। এসময় ফারুক আহমদ বলেন, ‘তুই আর তর দরজায় আমাকে দেখবে না’ বলে হাতের মোবাইল আছড়ে মারেন। এতে মোবাইল ভেঙে যায়। এর একটু পরেই তার গুঙ্গানোর শব্দ আমরা শুনতে পাই। এ সময় আমাদের চিৎকারে আশেপাশের মানুষ এসে জড়ো হন। ঘরে থাকা কীটনাশক খেয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
এদিকে ফারুক আহমদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। ৮ মাসের অন্তসত্মা স্ত্রী বারবার মুর্চা যাচ্ছেন। শুক্রবার বিকালে ফারুক আহমদের লাশ ওসমানী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে রাজনগর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দীন ভূইয়া বলেন, এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা নেয়া হয়েছে। তবে সুদের বিষয়টি আমরা শুনেছি। তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে। আঘাতের দাগ রয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থ্যা নেয়া হবে।