ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতির বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নগদ এক লাখ টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ঘরের আসবাবপত্র, পেনশনের গুরুত্বপূর্ণ নথি, সন্তানদের শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক-বীমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মূল্যবান মালামাল পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তা মাস্টার মো. এখলাছুর রহমান জকিগঞ্জ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক। তাঁর স্ত্রী সালমা খাতুন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
মো. এখলাছুর রহমান বলেন, “ফজরের নামাজ আদায়ের পর আমি ও আমার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভাঙে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা প্রাণে বেঁচে গেছি। কিন্তু চোখের সামনে সারা জীবনের সঞ্চয় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
তিনি জানান, আগুনে তাঁদের পেনশনের প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র পুড়ে গেছে। এছাড়া তাঁদের ছেলে মো. বাহার উদ্দিন, কাওছার আহমদ, গুলজার আহমদ, মো. আনহার উদ্দিন ও আজহারুল ইসলামের শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক ও বীমা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবর হোসেন বলেন, আগুনের তীব্রতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জকিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এ শিক্ষক পরিবারটি কোনো আর্থিক সহায়তা নয়, আগুনে পুড়ে যাওয়া পেনশনের নথি, শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক-বীমার কাগজপত্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।