নীলফামারীর সৈয়দপুরে মেয়াদ উত্তির্ণ ও নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ সহ পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তাররা রোগীদের উচ্চমাত্রার এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপত্রে লেখায় রোগীরা সুপারবার্গ নামক ইনফেকশনে ভোগার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেইসাথে চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হলেই রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে ব্যস্ত মেডিকেল রি-প্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্মে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার বেশ ক’জন রোগী।
অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই অনেকটা জোর-জবরদস্তি করেই কাজটি করছেন মেডিকেল রি-প্রেজেন্টেটিভরা। নিজ প্রতিষ্ঠানের ওষুধ লেখাতে চিকিৎসকের কাছে অফার-উপহারও পৌঁছে দেন তারা। এ কারণে মানহীন ওষুধ লেখার অভিযোগও কম নয়।
প্রেসক্রিপশনে রোগীর বিশেষ করে নারী রোগী গোপনীয় তথ্যসহ নানা নির্দেশনা থাকে। অনেক সময় পারিবারিক তথ্যও থাকে। কিন্তু কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির চ্যাটিং গ্রুপসহ বিভিন্ন জায়গায় তা’ আপলোড করা হয়।
যদিও সৈয়দপুরে কর্মরত পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীর মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার মোখলেছুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আগে এরকম অবস্থা থাকলেও এখন আর এ অবস্থা নেই বললেই চলে। এসময় তিনি জানান, এরকম কেউ করলে তাদের আটক করেন।
এসব ব্যাপারে সৈয়দপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শেখ নজরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, একজন রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা খুব খারাপ কাজ। এটা অবশ্যই অপরাধ। আমি আমার চেম্বারে এই কাজ এলাউ করি না। কোনো রি-প্রেজেন্টেটিভ ছবি তুলতেও পারে না। তাছাড়া কোনো রিপ্রেজেন্টেটিভ যদি ছবি তোলেন তা’ হলে তাদের সংগঠনের লোকাল ফারিহা ওই রি-প্রেজেন্টেটিভের জরিমানা করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে পল্লী চিকিৎসক ও গ্রাম্য ডাক্তারদের উচ্চমাত্রার এ্যান্টিবায়োটিক লেখা সম্পর্কে তিনি জানান, পল্লী চিকিৎসক বা গ্রাম্য ডাক্তারদের উচ্চমাত্রার এ্যান্টিবায়োটিক রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লেখার এখতিয়ার নেই। এসময় তিনি অভিযোগ করে জানান, ওইসব ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী উচ্চমাত্রার এ্যান্টিবায়োটিক সেবনকারী বেশ ক’জন রোগী ইনফেকশন নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণহয়ে পড়ে। কিন্তু হর-হামেশাই এরকম ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন পল্লী চিকিৎসক বা গ্রাম্য ডাক্তাররা। যার ফলে উচ্চমাত্রার এ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে সুপারবার্গ ইনফেকশনে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। এসময় তিনি জানান, এসব দেখার বিষয় স্বাস্থ্য-বিভাগের সিভিল সার্জনের।
এসব বিষয়ে মোবাইল ফোনে নীলফামারীর সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, পল্লী চিকিৎসক বা গ্রাম্য ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লেখার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারা উচ্চমাত্রার এ্যান্টিবায়োটিক লিখতে পারেন না। আপনাদের কাছে এরকম তথ্য থাকলে সাথে-সাথে আমাকে জানাবেন-আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো। তাছাড়া এ বিষয়টি শুধু আমার না ওষুধ প্রশাসনেরও দেখার বিষয়।
সৈয়দপুর ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোস্তফা বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের সমিতির কোনো করার নেই। এটা দেখা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও প্রশাসনের। তবে, আমরা আমাদের দোকানে প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগী বা তাদের লোকজন ওষুধ কিনতে এলে কোনো ছবি তুলতে দেই না। আর নকল ওষুধ ও মেয়াদ উত্তির্ণ ওষুধের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছি। তবে, কিছু কোম্পানী মেয়াদ উত্তির্ণ ওষুধ তুলে নিতে গড়িমসি করে থাকেন।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হলে নীলফামারী জেলার দায়িত্বে থাকা ওষুধ প্রশাসনের তত্বাবধায়ক আলমগীর হোসেন জানান, মেডিকেল রি-প্রেজেন্টেটিভদের ব্যাপার আমাদের করার নেই তবে, এ ধরণের কাজ রুখতে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এসময় ওষুধের দোকানে মেয়াদ উত্তির্ণ ও নকল ওষুধ বিক্রির ব্যাপারে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। ওষুধের দোকান মালিকদেরও এ ব্যাপারে সজাগ থাকা দরকার। তাছাড়া আমি প্রতি সপ্তাহে তদারকি চালাচ্ছি।
কোনো দোকানে মেয়াদ উত্তির্ণ ওষুধ পাওয়া গেলেও সেগুলো কোম্পানীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কেউ মেয়াদ উত্তির্ণ ওষুধ বিক্রি করছেন ? এমন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। এসময় তিনি আরো জানান, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এমনকি পল্লী চিকিৎসক বা গ্রাম্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে কোনো এ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি করার এখতিয়ার নেই কোনো ওষুধ দোকানদারের। তাছাড়া, তারা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো রোগীকে রোগের উপসর্গ শুনে ওষুধ দিতে পারেন না। এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।