বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫৫টি পরিবারের মাঝে শর্তহীন নগদ অর্থ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
কারিতাস বাংলাদেশের উদ্যোগে পরিচালিত একটি মানবিক সহায়তা প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ৮ হাজার টাকা করে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২৬ জুলাই) নয়াপাড়া রুপমুহুরি রিসোর্ট হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
কারিতাস বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ‘Alert BO-75 (Humanitarian Assistance to Flood and Landslide Affected People in Chattogram Division)’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে প্রতিটি উপকারভোগী পরিবারকে ৮ হাজার টাকা করে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, একই সঙ্গে একটি স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্যাকেজও বিতরণ করা হয়। প্যাকেজে রয়েছে ২০ লিটারের ঢাকনাযুক্ত বালতি, ১.৫ লিটারের প্লাস্টিকের মগ, স্যানিটারি ন্যাপকিন, নখ কাটার, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, ৫ লিটারের বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং ১০টি ওরস্যালাইন।
৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, এম.কফিল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ধরনের নগদ সহায়তা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হবে।"
৩ নং নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. কফিল উদ্দিন বলেন, "বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য এ সহায়তা সময়োপযোগী উদ্যোগ। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর এমন সহযোগিতা দুর্গত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে।"
কারিতাস বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মসূচি কর্মকর্তা, ডানিয়্যাল সিপু গোমেজ বলেন, "প্রকল্পের আওতায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জরুরি সহায়তার পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও কারিতাস বাংলাদেশ কাজ করবে।"
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কারিতাস বাংলাদেশ আলীকদম উপজেলা পিএইচইপি-৩ (PHEP-3) প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা জেসমিন চাকমা, আলীকদম প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জিয়াউদ্দিন জুয়েল, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডানিয়েল ধৃতু স্মাল, এইচজিইএস কর্মকর্তা মালিহা মুসতারিন, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, ফিল্ড অফিসার রিপন বড়ুয়া, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং উপকারভোগীরা।
কারিতাস বাংলাদেশ আলীকদম উপজেলা পিএইচইপি-৩ (PHEP-3) প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা জেসমিন চাকমা জানান, ১৪ জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ৪৫ দিনব্যাপী বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জরুরি চাহিদা পূরণ এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা। প্রকল্পটি ইউকে এইড (UKAid), সিডা (Sida), নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জার্সি ওভারসিজ এইড (JOA), কনরাড এন. হিলটন ফাউন্ডেশন এবং স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করছে কারিতাস বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম অঞ্চল।