ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এলজিইডির অধীনে একটি ড্রেনের নির্মাণ কাজে মাটি মিশিয়ে ঢালাই করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে নতুন করে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এটি আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের ঘটনা।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর বাজার থেকে কৌড়াতুলী লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৬৪০ মিটার ইউনি ব্লক সড়ক এবং ৩৪০ মিটার ড্রেন নির্মাণ কাজের টেন্ডার দেওয়া হয়। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৫০ লাখ টাকা। ড্রেনের প্রস্থ্য তিন ফুটের কিছু বেশি এবং গভীরতা দুই ফুট। দুই পাশে দশ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি এবং ড্রেনে ৩ ইঞ্চি সি সি ঢালাই।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জমির জুলিয়া ট্রেডার্সের নিয়োজিত শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে ড্রেনের অংশে কাজ করছে।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন লোক ড্রেনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন ঢালাইয়ের রং ফ্যাকাশে মাটির মতো। তাদের কৌতুহল হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আরও লোকজন সেখানে যায়। পরে এক যুবক সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করে অভিযোগ করেন ঢালাইয়ে মাটি মেশানো। পাতলা ঢালাই। সিমেন্ট বালু কম।
শনিবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় আনুমানিক ২০০ ফুট ড্রেন ঢালাই করা হয়েছে। ৪ জন শ্রমিক পুরাতন ঢালাই ভেঙ্গে বালু সুরকি সরিয়ে রাখছে। ঢালাইয়ের সিমেন্ট রংয়ের ভিন্ন।
এসময় কৌড়াতুলী গ্রামের মোঃ সেলিম মিয়া বলেন ঢালাইয়ে সিমেন্ট, বালু কম। ঢালাই নরম। খোঁচা দিলেই উঠে যায়। এই ড্রেন দিয়ে ৩' শ বিঘা জমিতে পানি দেওয়া হয়। ড্রেনটি ভালোভাবে করলে কৃষকরা উপকৃত হবে।
জানতে চাইলে মাসুম নামের এক শ্রমিক বলেন বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই দেওয়া হয়েছিল তাই ঢালাই খারাপ হয়েছে। মালিকের নির্দেশে আমরা ঢালাই তুলে ফেলছি। নতুন করে ঢালাই করা হবে।
এসময় ঠিকাদারের প্রতিনিধি এনাম মিয়া বলেন কিছু ত্রুটি হয়েছিল। প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে বলে গেছেন নতুন করে ঢালাই করার জন্য। আমরা নতুন করে ঢালাই করবো।
এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, বৃষ্টির মধ্যে কাজ করেছে। ঢালাই ত্রুটিপুর্ন ছিল। ঢালাই ভেঙে পুনরায় করার জন্য অফিস থেকে নোটিশ করা হয়েছে।