ঢাকা | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যায়যায়দিনে সংবাদ প্রকাশ: জালালাবাদ গ্যাসে বকেয়া ২০০ কোটি ১৮ কিস্তিতে ৫৮ কোটি দেওয়ার আবেদন

author
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৮
ad003
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) প্রায় ২০০ কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্টরা। অতীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিল আটকে রাখলেও এবার ১৮ কিস্তিতে ৫৮ কোটি টাকা পরিশোধের আবেদন করেছে স্টার সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেড।

যায়যায়দিনে ‘বকেয়ার পাহাড় তবু গ্যাস বহাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বকেয়াদার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জেজিটিডিএসএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়ার পরিমাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা রাখা জামানতেরও বহুগুণ, যা জেজিটিডিএসএলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় চাপ সৃষ্টি করছে।

সূত্র আরও জানায়, তথ্য সামনে আসার পর স্টার সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেড ৫৮ কোটি টাকা ১৮ কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে আবেদন নিয়ে যায়। তবে মন্ত্রী ওই অর্থ ১০ কিস্তিতে পরিশোধের বিষয়ে চাপ দিয়েছেন বলে সূত্রটির দাবি।

জেজিটিডিএসএলের হবিগঞ্জের শাহজীবাজার কার্যালয়ের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় ক্যাপটিভ পাওয়ারের ৪২টি ও শিল্পশ্রেণির ৩৯টিসহ মোট ৮১টি বাণিজ্যিক গ্যাস-সংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগে মাসে গড়ে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। পেট্রোবাংলার মাধ্যমে হবিগঞ্জ গ্যাসফিল্ডস লিমিটেড ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকায় এ গ্যাস কেনা হয়। প্রতি ঘনমিটারে ৩০ টাকা মূল্যের বিপরীতে কমিশন বাবদ ১৮ পয়সা হিসেবে জেজিটিডিএসএলের মাসিক আয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

গ্যাস আইন-২০১০ ও গ্যাস বিপণন বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ৪৫ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে তার গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়। অথচ ওই পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বকেয়া ৬ থেকে ১২ মাসের। বকেয়ার কারণে গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে একপর্যায়ে কারখানার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দলকে ফিরে আসতে হয়।

ক্যাপটিভ পাওয়ার সংযোগের গ্রাহকদের মধ্যে টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার উৎপাদনকারী স্টার সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেডের বকেয়া ২২ কোটি টাকা এবং পোর্সেলিন টেবিলওয়্যার উৎপাদনকারী স্টার পোর্সেলিন লিমিটেডের বকেয়া সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে শিল্পশ্রেণির সংযোগে স্টার সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেডের ৪০ কোটি, স্টার পোর্সেলিন লিমিটেডের ৭ কোটি এবং ডিটারজেন্ট, সাবান ও অন্যান্য গৃহস্থালি পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী এসএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে জেজিটিডিএসএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (আরডিডি, হবিগঞ্জ) মোঃ রুহুল করিম চৌধুরী যায়যায়দিনকে বলেন, “স্টার সিরামিকসের বকেয়া বিল নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হয়েছিল।  আদালত চলতি বিলের সঙ্গে বকেয়ার অর্থ ছয় কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই নির্দেশও মানেনি। এখন ১৮ কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের দপ্তরে আবেদন করেছে। আমরাও আগামী সপ্তাহে মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করব। এত বড় অঙ্কের বকেয়ার বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত ছাড়া আমাদের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT