ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরশুরামে লাইসেন্স ছাড়া যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

author
পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১
ad003
পরশুরামে অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র এলপিজি   সিলিন্ডার ও পেট্রল বিক্রি করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। গত মঙ্গলবার পরশুরাম উপজেলা সদরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় যত্রতত্র সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।একই সঙ্গে কোমল পানীয় বোতল পেট্রল বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানে দাহ্য পদার্থ রাখার কোন লাইসেন্স নেই। পরশুরাম বাজারে ঘুরে দেখা যায়, মুদি,মনিহারি ও ঔষধ ফার্মেসী সহ বিভিন্ন  দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। 

নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুত করতে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, বিস্ফোরক পরি দপ্তরের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধানও রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। 

বিস্ফোরক দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, খুচরা দোকানে বিক্রির জন্য সর্বোচ্চ ১০ টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা যাবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স করতে হবে। ১০ টির অধিক সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক পরি দপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।কিন্তু পরশুরাম উপজেলা তিনটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টি প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে পরশুরাম বাজারে লাইসেন্স আছে মাত্র ৩ টি প্রতিষ্ঠানের।বাকি প্রতিষ্ঠান গুলো কোনো ধরনের লাইসেন্স ছাড়াই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করছে। পেট্রোলিয়াম মজুত আইন২০১৮ তে বলা হয়েছে, কোনো পেট্রোলিয়াম মজুতাগার, স্থাপনা, ফিলিং স্টেশন, ড্রাম,ট্যাংক,শোধনাগার ও পরিবহন যানে, ধুমপান বা আগুন নিষিদ্ধ সতর্কবাণী সংবলিত সাইনবোর্ড বা লেবেল লাগাতে হবে। 

২০০৪ সালে এলপিজি মজুত সংরক্ষণ আইনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতীত কেউই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করতে পারবে না। গ্যাস সিলিন্ডার মজুত স্থান সব সময় পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেখানে কোনো প্রকারের আগুন বা বৈদ্যুতিক সংস্পর্শ না থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। গত কয়েক দিন পরশুরাম উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় বাজারে ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকান, তেলের দোকান, আবাসিক ভবন, পানের দোকান ঝুপড়ি, চায়ের দোকান ও ঔষধের দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রল। 

বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি পূর্ণ স্থানে এলপিজি সিলিন্ডার গুদামজাত করা হয়েছে। অধিকাংশ দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই।

এলপিজি ব্যবসায়ী সালাম ট্রেডার্স জানান, আমাদের দেশে কোন আইন কানুন নেই। আমরা সরকারি নিয়ম মেনে সব লাইসেন্স করে ব্যবসা করতেছি।সরকার কে হাজার হাজার টাকা ট্যাক্স দিচ্ছি।লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতেছি।কিন্তু যেখানে সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছে। তারা একটাকাও টেক্স দিচ্ছে না।প্রশাসন কে বার বার বলার পরেও কোন প্রতিকার পাইলাম না।তারা নিরবে সব কিছু দেখছে। আমরা খুবই ক্ষতি গ্রস্থ। এই দেশে সৎ ভাবে ব্যবসা করে  কেউই শান্তি পাচ্ছে না।৫ আগষ্টের পরেও অনিয়ম হাজারো অনিয়ম চলছে। কিছুই করার নেই। আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। 

হাসপাতাল মোড়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী  রাজন  ট্রেডার্স জানান, আমরা সরকারের সব কিছু মানার পরেও কিছু  অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে  সৎ ভাবে ব্যবসা বানিজ্য করতে  অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। মাস শেষে কর্মচারীদের বেতন, ঘর বাড়া দিতে পারছি না। ঋণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে! 

পুলিশ ও ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পরশুরামে অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রল রাখা হয় একেবারে খোলা আকাশের নিচে। প্রচণ্ড রোদ ও বর্ষার সময় বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যায়। অনেকে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখার নিয়মকানুন সম্পর্কে জানেন না। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখার আইনকানুন সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবেন। সঙ্গে সচেতন হতে পারবেন।

উপজেলা  ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, উপজেলায়  যেসব  প্রতিষ্ঠানকে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির ব্যবসা করছে। এর বাইরেও অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করে থাকে। তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অতনু বড়ুয়া , জানান আমরা এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিব।ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা করব।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্রগ্রাম  অঞ্চলের সহকারী  বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, জনবল সংকটের কারণে তাঁরা উপজেলা  পর্যায়ে অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি তদারক করতে পারছেন না। এরপরও চট্টগ্রাম বিভাগে কয়েক টি  জেলায় মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে।উপজেলা পর্যায় কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT