জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর এবার আলোচনায় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি। বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে, জোর গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, জবির শিক্ষকদের মধ্য থেকেই যেন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন তারা।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা কাকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দেখতে চান, তা জানতে সম্প্রতি একটি জরিপ চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম "আমরা জকসু চাই" ফেসবুক গ্রুপে। জরিপে অংশ নেন প্রায় পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমরানুল হককে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে চান। এ ছাড়া ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুর মোর্শেদকে চেয়েছেন ৪ শতাংশ এবং বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনকে চেয়েছেন ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় অধ্যাপক ইমরানুল হক বর্তমানে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২০০৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া প্রথম শিক্ষক।
তিনি ডেনমার্কের অ্যালবর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে ‘ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিয়রশিপ’ বিষয়ে এমএসসি এবং ২০২০ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ও পিএইচডি ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশি-আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৭৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাইসচ্যান্সেলর রিসার্চ এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।