ঢাকা | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

author
ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৪
ad003
ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে, ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আইয়ুব আলী সরদারের ছেলে চান সরদার (৪২) ও তারা সরদার (৩৫), জিয়াউল হক আকন্দের ছেলে বাবুল আকন্দ (৩৬)। তাঁদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহাড়ায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া পলাতক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সুত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। সে ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আকু শেখের ছেলে। এ ঘটনার পরেরদিন ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় চান সরদার, তারা সরদার ও শাহিন সরদারের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন নিহতের মা ফিরোজা বেগম ৷

মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। এছাড়া আসামী চান সরদার আড়তে লেবারের কাজ করতেন। ঘটনার আগে তাঁর ছেলে ফয়সালের সাথে আসামী চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এরমধ্যে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যায় চান সরদার। সেখানে ওৎ পেতে থাকা অন্য আসামীরা এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালের নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়।

আদালত সুত্রে আরও জানা যায়, এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চারজন আসামী নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে উল্লেখিত তিনজন আসামীসহ তদন্তপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে বাবুল আকন্দের নাম সংযুক্ত করেন। এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বলেন- দীর্ঘ শুনানি ও স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকান্ডটি সন্দেহতীতভাব প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে৷ এ মামলার এজাহারভূক্ত একজন আসামী মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT