ঢাকা | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬

দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন ও ই-সিগারেট বন্ধের দাবি সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির

author
যাযাদি ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ৩:৩৪
ad003
সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর অধীনে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং ক্ষতিকর ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর অবসর ভবনে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্ভ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই দাবি জানান।

সভায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার যে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সাবেক সচিব মোঃ শামসুল আলম খান নতুন উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের ঝুঁকি তুলে ধরে বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)-এর ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব পণ্য পরোক্ষভাবে বাজারে বৈধতা পাচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা তরুণদের নিকোটিন আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে জরুরি ও সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে সমিতির পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষ অকালমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। তাই জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT