ঢাকা | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস শূন্য নেত্রকোণায়: রান্না বন্ধ, অচল সিএনজি, বিপাকে হাসপাতাল-পরিবহন

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২২
ad003

টানা পাঁচ-সাত দিন ধরে জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় নেত্রকোণায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।

বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম, জেলার একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন অচল, বিপর্যস্ত পরিবহন ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল, জেলা কারাগার ও পুলিশ লাইন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানও পড়েছে চরম সংকটে। এতে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন জেলার প্রায় ৫ হাজার ৬০০ গ্রাহক মানবেতর দুর্ভোগে পড়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ে এলএনজি (LNG) টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এ সংকটকে সাময়িক উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও ত্রুটি নিরসনে কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।

তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণায় প্রায় ৫ হাজার ৬০০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক ছাড়াও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ২৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত পাঁচ দিন ধরে জেলায় গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই কম চাপের কারণে ভোগান্তি চলছিল।

গ্যাস না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল, পুলিশ লাইন্স, জেলা কারাগার এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের রান্না ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলার একমাত্র এ.আর. খান পাঠান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার বোরহান কবির বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কম প্রেসারের সমস্যা থাকলেও গত সাত থেকে আট দিন ধরে ইনলেট প্রেসার সম্পূর্ণ শূন্য। ফলে কোনো যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে স্টেশনের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং অটোরিকশা, অ্যাম্বুলেন্সসহ সিএনজিচালিত যানবাহন চরম সংকটে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি দূর হলেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু নেত্রকোণা ময়মনসিংহ অঞ্চলের শেষ প্রান্তে হওয়ায় এখানে গ্যাসের চাপ সবচেয়ে বেশি কমে গেছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে অনেকেই ময়মনসিংহে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ট্রিপে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে, যা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে।

চালকদের ভাষ্য, গ্যাস সংকটের কারণে আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। দ্রুত পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নেত্রকোণা জেলা তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপক মো. গোলাম মর্তুজা বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় নেত্রকোণায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এটি কোনো স্থানীয় সমস্যা নয়; জাতীয় পর্যায়ের একটি সাময়িক কারিগরি সংকট। সমস্যার সমাধানে দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমিও নেত্রকোণার বাসিন্দা এবং তিতাসের একজন গ্রাহক। মানুষের দুর্ভোগ আমি উপলব্ধি করতে পারছি। আশা করছি আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ সময় পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী এ গ্যাস সংকটে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীরা।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT