কক্সবাজারে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ৫ হাজার পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। এ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ২টায় চকরিয়া উপজেলার বরই তলী ইউনিয়নের ৫০০ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (KSrelief) অর্থায়নে পরিচালিত এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। আয়োজকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে এ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তৈল, ৩ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য প্যাকেজ দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলায় এ সহায়তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
বরইতলী ইউনিয়নে আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জমান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে বরই তলী ইউপি চেয়ারম্যান জবাব মোহাম্মদ ছালেকুজ্জ্মান বলেন, বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এ ধরনের মানবিক সহায়তা তাদের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আইএসডিই বাংলাদেশের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা পর্যায়ক্রমে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত ৫ হাজার পরিবারের সবাইকে সহায়তা দেওয়া হবে।
খাদ্য সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। তাঁদের ভাষ্য, বন্যায় ঘরবাড়ি ও জীবিকার ক্ষতি হওয়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল। এই খাদ্য সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং কিছুদিনের জন্য হলেও দুশ্চিন্তা কমাবে।
আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, এর আগে হোস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল, বন্যাকবলিত এলাকা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ প্রায় ৫৯ হাজার ৫০০শত সুবিধাভোগীর মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে থেকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।