ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

author
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩১ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:১৩
ad003
টেকনাফ–উখিয়ার চলমান অপহরণ, মানবপাচার, সীমান্ত অপরাধ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়ার কক্সবাজার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভা বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রতিনিধি দল সীমান্ত এলাকার বর্তমান বাস্তবতা, সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনা, বিভিন্ন এলাকায় গুলাগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্ক এবং সম্প্রতি শিলখালীতে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 

প্রতিনিধিরা বলেন, টেকনাফ–উখিয়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে এবং এই পরিস্থিতির দ্রুত ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।

আলোচনার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অপরাধ দমনে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে টেকনাফ মডেল থানায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য নিয়োগ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে বলেন, “আমরা আপনাদের আন্দোলন সম্পর্কে অবগত আছি। এই আন্দোলন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। আমি নিজেও কিছুদিন আগে টেকনাফ পরিদর্শন করেছি। বাস্তবতা অবশ্যই কঠিন, তবে প্রশাসনকে জনগণ সহযোগিতা করলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ আরও সহজ হবে।”

এ সময় প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের নিকট "টেকনাফ–উখিয়ার অপহরণ, মানবপাচার, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি" সম্বলিত স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন।

দাবিগুলো হল,
১. অপহরণ ও মানবপাচার দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থায়ী বিশেষ বাহিনী গঠন।
২. সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অতিরিক্ত বিজিবি ও প্রয়োজনীয় পুলিশ জনবল বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন।
৩. নাফ নদী ও সাগর পথে ২৪ ঘণ্টা সমন্বিত নিরাপত্তা টহল এবং জালিয়ার দ্বীপে কোস্টগার্ডের স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন।
৪. ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিতকরণ।
৫. সশস্ত্র অপরাধী, অপহরণকারী, মানবপাচারকারী এবং মাদক-অস্ত্র চোরাচালানকারী চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা।
৬. জেলা প্রশাসনের নের্তৃত্বে টেকনাফ–উখিয়ার জন্য সমন্বিত বিশেষ নিরাপত্তা কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

সভা শেষে প্রতিনিধিদল বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, জনস্বার্থভিত্তিক এবং অরাজনৈতিক। টেকনাফ–উখিয়ার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আমাদের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা আশ্বাসের চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চাই।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT