নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় সরকারিভাবে বৈধভাবে ইজারাকৃত ‘ধরুন্দার খাল’ দখল করে বেআইনিভাবে মাছ ধরা ও শামুক তোলায় বাধা দেওয়ার জেরে ইজারাদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবী, একটি প্রভাবশালী চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও নূরপুর বোয়ালী মৌজায় অবস্থিত ধরুন্দার খাল, লাচুয়ানির খাল ও নয়ার খাল ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ক্যাশ কালেকশনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়।
এই ইজারা পান মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। ২২ এপ্রিল চালানের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত অর্থ ব্যাংকে জমা দেন তিনি।
ইজারা পাওয়ার পর থেকেই একই গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালটি দখল করে অবৈধভাবে মাছ ও শামুক ধরার চেষ্টা করছিল। তখন ইজারাদার ও তার লোকজন বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ওই গ্রামের মো. ওয়ালিদ মিয়া ইজারাদারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে খাল দখল ও চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তুলে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
সরেজমিনে ধরুন্দা খাল এলাকার ৮-১০ জন বাসিন্দা ও শামুক সংগ্রহকারীরা জানান, অভিযোগকারীদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ইজারাকৃত জায়গা থেকে বেআইনি মাছ ও শামুক তোলায় বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েই এই অপপ্রচার।
অভিযোগকারী ওয়ালিদ মিয়ার মুখোমুখি ইজারাদার সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে দাঁড় করিয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ালিদ মিয়া বলেন, এই লোক আমার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেননি। তবে কেন অভিযোগ দিলেন এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ইজারাদার সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, খালটি ইজারা নেওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জোরপূর্বক মাছ ও শামুক ধরার চেষ্টা করছিল। বাধা দেওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে এই হীন ও মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।