মৌলভীবাজারের ৪টি নদ-নদীর মধ্যে মনূ,ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি অনেকটা কমে গেলেও জেলার রাজনগর ও সদর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীতে এখনও পানি বিপসীমার উপর ও নীচ দিয়ে উঠানামা করছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে দুই উপজেলার উত্তরভাগ,ফতেপুর,মনূমুখ ও খলিলপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের প্রায় ১ লাখ মানুষের জনজীবন।
স্থানীরা জানান, দীর্ঘ ৫ যুগ ধরে নদী পাড়ের জলমগ্ন মানুষের দূর্দশা লাঘব ও প্রকৃত সমস্যা সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। দীর্ঘ বন্যায় নদী পাড়ের গ্রামগুলো তলিয়ে থাকে মাসের পর মাস। ইতিমধ্যে শত শত বাড়ি ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে নদী গর্ভে।
জলমগ্ন থাকা গ্রাম গুলো হচ্ছে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বকশিপুর, ছিক্কাগাঁও,কামালপুর,আমনপুর, সুরিখাল,যুগিকোনা,কেশরপাড়া,সুনামপুর,উমরপুর,কান্দিগাঁও,জোড়াপুর,রামপুর ও ফতেপুর ইউনিয়নের সাদাপুর, হামিদপুর বেড়কুড়ি,শাহাপুর,জাহিদপুর,আব্দুল্লাহপুর, রশীদপুর,ইসলামপুর, সদর উপজেলার মনূমুখ ইউনিয়নের মনূমুখ,চাঁনপুর,সেওয়াইজুরি ও খলিলপুর ইউনিয়নের নতুন বস্তি, ব্রাম্মনগ্রাম,হামরকোনা,নাদামপুরসহ আরও বেশ ক’টি গ্রাম।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ বন্যা থেকে নদী পাড়ের গ্রাম বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তরফ থেকে পুরোধমে নদী খনন করা হলে দ্রæত পানি নিস্কাশন হয়ে ভাটিতে চলে যাবে। এতে পানির চাপ কমে গিয়ে বসতিতে হানা দেবে না।
এছাড়াও খননকৃত মাটি দিয়ে জলমগ্ন গ্রাম ভরাট ও নদী পাড়ে লম্বা বাঁধ নির্মাণ করা হলে কুশিয়ারা’র থাবা থেকে পরিত্রাণ পাবে লক্ষাধিক মানুষ। পাশাপাাশি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ না ফেলে বøকের আওতায় আনা হলে নদী পাড়ের অবশিষ্ট গ্রাম রক্ষা পাবে। সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার কুর্শিয়ারা পাড়ের সুনামপুর ও শাহাপুর গ্রামে গেলে দেখা যায়, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া রাস্থা-ঘাট থেকে নদীর পানি সরে গেলেও ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সলিং করা সড়ক থেকে ইট বের হয়ে খাঁদে পড়েছে। সিংহভাগ বাড়ি-ঘর ও আঙ্গিন্য়া বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। নদীর পানি উঠানামা করায় স্থানীয়দের মাঝে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহদি হাসান বলেন, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে প্রবল বেগে পানি বসতি এসে আঘাত হানে। এতে আমাদের রাস্থাঘাট ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা কেন দেখে না দেখার ভান করছেন।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ও কুশিয়ারা নদী পাড়ের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইয়ামীর আলী বলেন, প্রবল বন্যা থেকে গ্রামগুলোকে বাঁচাতে নদী খনন করা হলে দ্রæত পানি চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী মোঃ খালেদ বিল অলীদ বলেন, কুশিয়ারা পাড়ে বর্ষাকালে তো পানি থাকবেই। বন্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে উচু করে বাড়ি নির্মাণ করতে হবে।
নদী খননের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নদী খনন করা তো অনেক বড় প্রজেক্ট। শুধু মৌলভীবাজার খনন করলে তো আর হবে না। সিলেট,হবিগঞ্জসহ কুশিয়ারা পাড়ের অন্যান্য জেলায় খনন কার্যক্রম চালাতে হবে। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো।