নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মঞ্জুরুল হক (৬০) তার স্ত্রীর পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মনোহরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন কাজী সাইদুল ইসলাম রনি (৩৫), পিতা- জালাল উদ্দিন; কাজী জালাল উদ্দিন (৬২), পিতা- মৃত কাজী আবুল হাসেম; কাজী জহিরুল ইসলাম (৩৮), পিতা- কাজী জালাল উদ্দিন; কাজী আশরাফুল আলম রতন (৪৬), পিতা- জিয়াউল হক কাজী; কাজী আওলাদ হোসেন (২৯), পিতা- কাজী মতিন মিয়া এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে। তাদের সকলের বাড়ি নলুয়া কাজীবাড়ি, চন্দনবাড়ী ইউনিয়ন, মনোহরদী উপজেলা, নরসিংদী জেলা।
লিখিত অভিযোগে মো. মঞ্জুরুল হক উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজন। দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী লুৎফুন্নাহারের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তার স্ত্রী ২ নম্বর বিবাদীর ভাই কাজী এমদাদুল হকের কাছ থেকে বৈধ সাব-কাওলা দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেন এবং ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমিসহ দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে তাদের অনুপস্থিতিতে জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে দলিলপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জমির মালিকানা অভিযোগকারীর স্ত্রীর বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, ১ নম্বর বিবাদী একজন পুলিশ সদস্য হওয়ায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে মনোহরদী থানাধীন নলুয়া চক মৌজার বিরোধপূর্ণ জমিতে অভিযোগকারী তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গেলে অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা প্রদান করেন। এ সময় তারা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দা, কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। এতে প্রাণভয়ে অভিযোগকারী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পরও বিবাদীরা তাদের পিছু ধাওয়া করে ভবিষ্যতে জমিতে গেলে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়ার হুমকি দেন। পাশাপাশি কোনো ধরনের সালিশ বা আপস-মীমাংসা মানবেন না বলেও জানিয়ে দেন।
অভিযোগকারী জানান, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে যে কোনো সময় জমি দখল এবং বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি মনোহরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন অভিযোগ পেয়েছি ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হইবে
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মোবাইলে ফোন করে ও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি। অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।