রাজধানীর কাফরুলে রাতের আধারে হঠাৎ গুলির শব্দ। টার্গেট ছিল এক জন স্থানীয় যুবদল নেতা। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে প্রাণ হারায় আরেক কর্মী। কয়েক দিন আগেই সবুজবাগে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল এক বিএনপি কর্মীর দুই হাতের কবজি। তারও আগে কিশোরগঞ্জে দিন-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় উপজেলা পর্যায়ের এক নেতাকে। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একই ছবির আলাদা ফ্রেম।
মাত্র ছয় মাসে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৩৮ নেতা-কর্মীর মৃত্যু দেশের রাজনীতির সামনে নতুন এক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, এগুলো কি কেবল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, নাকি স্থানীয় ক্ষমতা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং দখল-রাজনীতির রক্তাক্ত বহিঃপ্রকাশ?
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মানবাধিকার সংস্থা এবং অপরাধ বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ বলছে, সাম্প্রতিক অধিকাংশ ঘটনায় মতাদর্শের সংঘাত নয়; বরং স্থানীয় অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার, ফুটপাত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাজার, পরিবহন, বালুমহাল এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে শুধু একটি ‘ছাতা’; ভেতরে চলছে কোটি টাকার অর্থনৈতিক লড়াই।
সংখ্যার ভাষায় যে অস্বস্তিকর বাস্তবতা
রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোকে আলাদা করে দেখলে হয়ত সেগুলো স্থানীয় বিরোধ বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু পরিসংখ্যান একত্র করলে ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৩৮ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছে। এর মধ্যেÑ বিএনপির ২১ জন, যুবদলের আট, ছাত্রদলের দুই, শ্রমিক দলের দুই, কৃষক দলের দুই, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই ও তাঁতী দলের এক জন
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুনÑ এই পাচ মাসে দেশে এক হাজার ৯১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ, দখল, চাদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধÑ সব মিলিয়েই হত্যাকাণ্ডের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানাচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম তিন মাসেই রাজনৈতিক সহিংসতার অন্তত ৬১০টি ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ৩৬ জন, আহত হয়েছে চার হাজারের বেশি মানুষ। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতার প্রায় ৯৪ শতাংশই ঘটেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ অথবা বিএনপি ও অন্যান্য দলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে।
খুনের নেপথ্যে একই ইসু
ঢাকার কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ হত্যার তদন্তে পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে, তা শুধু একটি মামলার ঘটনা নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার ধরনও ব্যাখ্যা করে। তদন্তে উঠে এসেছে, ময়লা পরিবহনে টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, স্থানীয় ব্যবসা এবং একটি টিনশেড বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। প্রতিপক্ষকে হত্যার জন্য কয়েক লাখ টাকায় ভাড়াটে শুটার আনা হয়। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত হয় পারভেজ। সবুজবাগে ইব্রাহিম পলাশ হত্যার ক্ষেত্রেও তদন্তে উঠে এসেছে স্থানীয় বিরোধের তথ্য। কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায়ও পুলিশ বলছে, কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া অপরাধীদের ভাড়া করে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়েছিল। রাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার প্রাথমিক তদন্তেও উঠে আসে ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব। চট্টগ্রাম, খুলনা, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ কিংবা ময়মনসিংহÑ প্রতিটি জেলার আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পেছনেও প্রায় একই ধরনের কারণ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের মোটিভ বারবার ফিরে আসছে?
রাজনীতির চেয়ে বড় হয়ে উঠছে অর্থনীতি
এক সময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড মানেই ছিল আদর্শগত সংঘর্ষ বা প্রতিপক্ষের হামলা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা এখন শুধু সাংগঠনিক কর্তৃত্বের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। একটি ইউনিয়নের বাজার ইজারা, একটি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, একটি বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ, একটি ফুটপাত, একটি বালুমহাল কিংবা একটি টেন্ডারÑ এসবের আর্থিক মূল্য অনেক ক্ষেত্রে বছরে কোটি টাকায় পৌছায়। ফলে স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্বও আর কেবল পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা রূপ নেয় অর্থনৈতিক আধিপত্যের সংঘর্ষে। এক জন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধী গোষ্ঠী অর্থনৈতিক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সংঘর্ষের ভাষা রাজনৈতিক হলেও উদ্দেশ্য থাকে অর্থনৈতিক।
মাঠে যা দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক অনেক হত্যাকাণ্ডে একটি নতুন প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছেÑ স্থানীয় বিরোধ মেটাতে বাইরে থেকে পেশাদার শুটার ভাড়া করা হচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক সহিংসতা নয়; বরং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিস্তারেরও ইঙ্গিত। তদন্তকারীদের মতে, অপরাধ সংঘটনের ধরনও বদলেছে। পরিকল্পনা, নজরদারি, মোটর সাইকেল ব্যবহার, দ্রুত এলাকা ত্যাগ, সব মিলিয়ে অনেক হত্যাকাণ্ড এখন পেশাদার অপরাধের বৈশিষ্ট্য বহন করছে।
রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিটি ঘটনার পর একটি পরিচিত দৃশ্য দেখা যায় মামলা হয়, কয়েক জন গ্রেফতার হয়, রাজনৈতিক বক্তব্য আসে, তারপর ঘটনাটি ধীরে ধীরে সংবাদপত্রের পাতা থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে আবারো ঘটে একই ধরনের আরেকটি হত্যাকাণ্ড। ফলে প্রশ্নটি থেকে যায়, এগুলো কি সত্যিই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি একই সংকটের পুনরাবৃত্তি? বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতা বুঝতে হলে শুধু হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা নয়, এর অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রেক্ষাপটও দেখতে হবে।
অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব এখন শুধু ভোট বা নেতৃত্বের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিপুল অর্থের প্রবাহ। একটি ফুটপাত, একটি বাসস্ট্যান্ড, একটি বাজার, বর্জ্য অপসারণের ঠিকাদারি, পরিবহন রুট, বালুমহাল, এমনকি স্থানীয় নির্মাণ কাজের সরবরাহ, এসব খাত থেকে প্রতিদিন কিংবা প্রতি মাসে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একই রাজনৈতিক দলের একাধিক পক্ষ মুখোমুখি হচ্ছে।
ঢাকা ইউনিভার্সিটির সমাজকল্যাণ ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা অনেক সময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে কেবল দলীয় বিরোধ হিসেবে দেখি। কিন্তু তদন্ত করলে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর পেছনে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন থাকে। ফুটপাত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, জমি, বাজার, টেন্ডারÑ এসব খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে সংঘর্ষ হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় সেখানে এক ধরনের সুরক্ষা বলয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির পরিমাণ বেশি, সেখানে সহিংসতার ঝুকিও বেশি। কারণ আইনের পরিবর্তে শক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা তৈরি হয়। এই অর্থনীতিকে নিয়মের মধ্যে না আনলে শুধু গ্রেফতার করে সহিংসতা কমানো সম্ভব হবে না।’
শুধু হত্যাকারী নয়, পৃষ্ঠপোষকও প্রশ্নের মুখে
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে। কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ হত্যার তদন্তে যেমন বাইরে থেকে শুটার আনার তথ্য পেয়েছে পুলিশ, তেমনি কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের ঘটনায়ও ভাড়াটে খুনি ব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। সাবেক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক জন কর্মকর্তা মনে করেন, এটি উদ্বেগজনক পরিবর্তন। তাদের মতে, স্থানীয় বিরোধ এখন আর স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র অর্থের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও পেশাদার অপরাধের মধ্যে ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কবার্তা
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণও একই ধরনের উদ্বেগের কথা বলছে। এইচআরএসএস তাদের নির্বাচন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, সহিংসতার বড় অংশের পেছনে রয়েছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, চাদাবাজি, প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বন্দ্ব এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ সংঘাত। সংস্থাটির বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে, শুধু প্রাণহানিই নয়, শত শত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বিভিন্ন সময়ে তাদের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। তাদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা নতুন করে জন্ম নেয়।
পুলিশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক অপরাধের ধরন বদলে গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করি। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় দখল, ব্যবসা, ময়লা ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত কিংবা অন্যান্য আর্থিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে শুটার এনে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।’ তার মতে, কেবল অপরাধী গ্রেফতার করলেই হবে না; অপরাধের অর্থনৈতিক উৎসগুলোকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
দলের ভেতরের সংকট কতটা গভীর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস প্রায় সব রাজনৈতিক দলেই ঘটে। কিন্তু যেখানে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা দুর্বল এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে, সেখানে সংঘাতও বাড়ে। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে সেই বিরোধ অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নেয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দলের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আর দলীয় কেউ এতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর হতে দ্বিধা করবে না বিএনপি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাইরের হামলার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সমাধান কোথায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সহিংসতা কমাতে কেবল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। তাদের সুপারিশÑ স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। টেন্ডার, ফুটপাত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহনসহ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত চাদাবাজি ও দখল-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান। প্রতিটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি বৃদ্ধি।
গত ছয় মাসে ৩৮টি প্রাণহানি কেবল একটি দলের ক্ষতির পরিসংখ্যান নয়; এটি বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির বদলে যাওয়া চরিত্রেরও প্রতিচ্ছবি। এক সময় রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্র ছিল মতাদর্শ। এখন বহু ক্ষেত্রে সেই জায়গা দখল করেছে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা। ফুটপাত থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাজার থেকে বালুমহালÑ যেখানে অর্থ, সেখানেই ক্ষমতার লড়াই; আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে নির্মম মূল্য দিচ্ছে রাজনৈতিক কর্মীরাই। প্রশ্নটি তাই শুধু, আর কতজন নিহত হলেন, তা নয়। প্রশ্ন হলো যে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি স্থানীয় ক্ষমতা ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে একই সুতোয় বেধে ফেলেছে, সেই কাঠামো ভাঙার উদ্যোগ কবে দেখা যাবে? কারণ, কাঠামো অটুট থাকলে আজকের ৩৮-এর জায়গায় আগামী ছয় মাসে সংখ্যাটি আরো বড় হবে কি না, সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।