নেত্রকোণা পৌর শহরের কুরপাড় এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুলন্ত তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি দুধেল গাভীর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার বিকেলে কুরপাড় মীরবাড়ি সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন ও স্থাপনার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
মারা যাওয়া গাভীটি স্থানীয় খামারি সৈয়দ শফি আহমেদের দুগ্ধ খামারের বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুরপাড় মীরবাড়ি এলাকায় সৈয়দ শফি আহমেদের একটি দুগ্ধ খামার রয়েছে। প্রতিদিনের মতো রোববার দুপুরে গাভীগুলোকে গোসল করিয়ে খামারের আশপাশে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিকেলের দিকে একটি গাভী মীরবাড়ি টাওয়ারসংলগ্ন ট্রান্সমিটারের পিলারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিচের দিকে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে। এতে গাভীটি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
খামারের ব্যবস্থাপক হেলিম মিয়া বলেন, ‘গাভীগুলো নিয়মিত খোলা জায়গায় ঘাস খায়। আজও একইভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রান্সমিটারের পাশে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লাগতেই একটি দুধেল গাভী মারা যায়। এটি শুধু আমাদের ক্ষতিই নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
কয়েকদিন আগেও কুরপাড় কাইলাটি মোড়ে একই ধরনের ঘটনায় একটি গরু মারা যায়। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ঝুঁকিপূর্ণ লাইন দ্রুত সংস্কার করা হোক।’
এলাকাবাসীর ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সমিটার ও ঝুলন্ত তার দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থাপনা মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নেত্রকোণা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি গাভীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে যদি বৈদ্যুতিক লাইনের কোনো ত্রুটি বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা পাওয়া যায়, তাহলে তা দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’