ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদীতে চোরাই সংযোগে লাইনে লিকেজ,বাতাসে উড়ছে গ্যাস,দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

author
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৬:১৪
ad003
দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট চললেও দেড় মাস ধরে বাতাসে উড়ে নষ্ট হচ্ছে গ্যাস। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস নষ্ট হলেও এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

অনুমোদনহীন একটি চুনাপাথর কারখানাকে চোরাই সংযোগ দিতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।ঘটনাস্থল হলো কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রাম। ওই গ্রামে নদের তলদেশে তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইনের ছিদ্র দিয়ে প্রায় ৪৫ দিন ধরে অনবরত বের হচ্ছে গ্যাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিকেজ থেকে প্রতিদিন বুদবুদ আকারে প্রবল গতিতে গ্যাস বেরুচ্ছে।চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র গন্ধ। এতে রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এদিকে, ঘটনার পর থেকে কারখানার মালিক লাপাত্তা।

স্থানীয় ও একাধিক প্রভাবশালী অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় কারখানাটি পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এখনও অধরা রয়েছে অভিযুক্তরা।

তিতাস সূত্রে জানা গেছে, লিকেজ বন্ধে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তিতাস গ্যাসের কর্মীরা। তবে নদীর প্রবল স্রোত, পানির চাপ ও তলদেশের মাটি ধসে পড়ায় জটিল হয়ে পড়েছে মেরামতের কাজ। নদীর তলদেশে লিকেজের স্থান চিহ্নিত করে চলছে মেরামতের চেষ্টা।


স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর তলদেশে থাকা উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইন থেকে নদীর পাশেই দুই মাস আগে গড়ে ওঠা একটি চুন কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে গ্যাস বের হতে শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, জেলার শেষ সীমানা এবং নদীর পাশে হওয়ায় জায়গাটি বাছাই করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য গ্যাস চুরি করে কারখানা পরিচালনা। তিতাস গ্যাসের লোকজন অবৈধ সংযোগ দিয়েছে বলেই তাদের ধারণা। অন্য কেউ লাইনে হাত দেওয়ার সাহস করার কথা নয়। তারা বলেন, কারখানা করতে পেছন থেকে প্রভাবশালী লোকজনের শেল্টার ছিল। যারা জড়িত ও সহায়তা করেছে, তাদের উভয়কেই আইনের আওতায় আনা উচিত মনে করেন তারা।তবে অবৈধ সংযোগের চেষ্টা হয়েছিল কিনা, তা এখনও  নিশ্চিত করেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ। 

কাজীরচর গ্রামের বাসিন্দা সবুজ, বাতেন, খলিল মিয়াসহ কয়েকজন বলেন, এতদিন ধরে গ্যাস নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। অথচ এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। বাতাসে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় তাদের আতঙ্ক বেড়েছে। এমন চোরাই লাইন আরো কোথায় রয়েছে সরকারের উচিত তদন্ত করে বের করা এবং দায়ীদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা। 

কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাস জোনাল বিক্রয় অফিসের ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, লিকেজের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পাইপ লাইনের চাপও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহ অঞ্চল (ভালুকা) ডিভিশনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. শামীম হোসেন বলেন, এটি মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ ডিআরএস পর্যন্ত গ্যাস পরিবহনের উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইন। এ লাইন থেকে সরাসরি কোনো গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় না। তবে কারা এবং কীভাবে পাইপলাইনে ছিদ্র করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘আমরা জেলা  প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অসাধু চক্র লাইন ছিদ্র করে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পাশেই একটি চুনাপাথরের কারখানা রয়েছে। সেখানকার লোকজন পলাতক। তদন্ত শেষে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এখানে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কিনা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে  জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT