নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহোদর কোটাসহ ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে কমিটি গঠনের কয়েক কার্যদিবস পার হলেও সোমবার পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি আমেনা খাতুন।
জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবীর। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কমিটি গঠনের পর কয়েক কার্যদিবস অতিক্রম হলেও সোমবার পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের বলেন, “দ্রুত তদন্ত শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে থাকায় তদন্ত শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ছুটি শেষ হয়েছে, এখন তদন্ত শুরু হবে। সহোদর কোটাসহ ভর্তি-সংক্রান্ত সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে সহোদর কোটায় দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের একজন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। অন্য শিক্ষার্থীরও এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোনো ভাই বা বোন নেই। এরপরও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তাদের সহোদর অধ্যয়নের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে তাদের সহোদর কোটায় ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও কৌশলের মাধ্যমে আরও ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তদন্তে এসব অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, এটিই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তদন্ত করে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন অধিদপ্তরে জমা দিলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।