নরসিংদীর রায়পুরায় অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনায় গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলো- রায়পুরা উপজেলার চরমরজাল গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে দিপু মিয়া (২২) এবং একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব হাসান রুবেল (২৬)।
জানা গেছে, ১ আগস্ট শনিবার রাতে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল গ্রামের জনৈক হুমায়ুন মিয়ার বাড়ির পাশে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রী স্থানীয় কয়েকজন যুবকের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে তারা ভিডিও ধারণ করে এবং এই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির কাছে ১০ হাজার টাকা চাদা দাবি করা হয়। এমন অভিযোগ নিয়ে গত রবিবার (২ আগস্ট) ধর্ষণের শিকার হওয়া ছাত্রীর মা বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রায়পুরা থানা পুলিশ গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) দিপু মিয়া ও রাকিব হাসান রুবেলকে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।
মামলার অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, চরমরজাল এলাকায় কাজী মোহাম্মদ বশির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে রিয়াম (১৭) নামে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্থানীয় চার যুবক রাস্তা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় পার্শবর্তী এক পুকুর পাড়ে। সেখানে নেয়ার পর মেয়েটিকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই পুকুর পাড়ে আটক রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং ধর্ষণের চিত্র ভিডিওতে ধারণ করে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে এই ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। রাত প্রায় দুইটার দিকে মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মায়ের কাছে এই ঘটনা জানায়। পরের দিন মেয়েটির মা বাদি হয়ে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।
এব্যাপারে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদি হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ্য করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য দুই আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।