ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গুড়ায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ পাঁচ বছরের শিশুকে কবরস্থানের পাশে ধর্ষণ চেষ্টা

author
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৬:০৫
ad003
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আব্দুস সাত্তার (৮০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশুকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে  কবরস্থানের পাশে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে  উপজেলার পৌর সদরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণকার পাড়া মাবুলা কবরস্থানের প্রধান ফটকের সামনে পরিত্যক্ত একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয় লোক দেখে ফেলায় শিশুটিকে রেখে তিনি পালিয়ে যান। এ  ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত মেসের উদ্দিনের ছেলে ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ  আব্দুস সাত্তার পেশায় একজন শিলপাটা ধারকাটিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনার দিন সকাল  আটটার দিকে শীল পরিবারের  ছোট্ট শিশুটি বাড়ির সামনে দিয়ে খেলাধুলা করছিলেন। লোকজন না থাকার ফাঁকে ওই বৃদ্ধা শীল পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে ছোট্ট একটি পরিত্যক্ত টিনের ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। শিশুর চিৎকারে ও চেঁচামেচিতে লোকজন এগিয়ে আসলে বৃদ্ধ সাত্তার শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে সটকে পড়েন। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। ওই শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মা এবং পিসির কাছে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত খুলে বলেন। 

এ ঘটনা শোনার পরে শিশুটির পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। প্রথমে স্থানীয়রা মীমোৎসর চেষ্টা করেও তা ব্যর্থ হন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিম  সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত হতে পারেন। পরে শিশুটির পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আসামীকে পুলিশ  গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে  রয়েছে। তাদের আলাদা আলাদা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু আব্দুস সাত্তার তার নিজস্ব বসত ঘর থাকা সত্ত্বেও কবর স্থান সংলগ্ন টিনের ঝুপড়ি ঘরে মাঝে মাঝে অবস্থান করেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার গ্রামে গ্রামে ঘুরে  সিল পাটা ধার কাটিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ওই ঝুপড়ি ঘরে  এর আগেও দুই শিশুকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে এসে শ্রীলতা হানি করেছেন। পরে তার ছেলেরা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজসে ওই বিষয়টি  ধামাচাপা দিয়েছেন। ওইসব ঘটনার পর থেকেই মূলত তিনি বেপরোয়া আরো  হয়ে ওঠেন। 

শীল  পরিবারের ভিকটিমের পিতা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছোট্ট শিশু। তার সঙ্গে যা হয়েছে তাতে আমার আর মান মর্যাদা রইলো না। প্রয়োজনে বসতবাড়ি বিক্রয় করে এলাকা ত্যাগ করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় দেখছি না। 

ওই এলাকার বাসিন্দা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মুকুল হোসেন জানান, এর আগেও একাধিকবার ঐ বৃদ্ধার এমন অপকর্মের কথা শুনেছি। এমন অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার। 

ভাঙ্গুড়া থানার এস আই সুব্রত কুমার বলেন, আব্দুস সাত্তার সম্পর্কে এর আগেও আরো এমন ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। 

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারের বসত বাড়িতে গিয়ে তার বাড়িতে তালা চাবি দেখতে পাওয়া যায়। তার বাড়িতে কোন লোকজন না থাকায় কারো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। 

ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন,  বৃদ্ধ কর্তৃক শিশু ধর্ষণ চেষ্টার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। শিশুটির বক্তব্য শুনে ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে। যত দ্রুত সম্ভব আসামীকে  আটক করে আইনের  আওতায় আনা হবে। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT