ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়পুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শাশুড়ি আটক

author
মেহেরাব ইমরান আকিব, রায়পুর

প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪১
ad003
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তানিয়া আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে তানিয়াকে মারধর করে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সৎ শাশুড়ি রুবিনা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাকোপা গ্রামের পশ্চিম কলাকোপা নোয়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানিয়া ওই এলাকার দিনমজুর ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, তানিয়ার সঙ্গে তার সৎ শাশুড়ি রুবিনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তানিয়াকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুবিনা বেগমের সঙ্গে তানিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তানিয়ার মৃত্যু হলে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, তানিয়াকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে তাকে নামিয়ে খাটের ওপর শুইয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পর রুবিনা বেগম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে একটি কক্ষে রাখেন। খবর পেয়ে রায়পুর থানার এসআই ফারুক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় তানিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা হতে পারে পুলিশের এমন প্রাথমিক বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশ কর্মকর্তাকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অভিযুক্ত রুবিনা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

নিহতের স্বামী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

নিহতের পরিবারের দাবি, তানিয়ার একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানও তার মাকে মারধর এবং পরে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টার কথা জানিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

রায়পুর থানার ওসি নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT