টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ এক প্রবাসফেরত ব্যক্তিকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালমেঘা গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। গত শনিবার গভীর রাতে তাঁকে তাঁর পৈতৃক ভিটার পাশের একটি গ্রামীণ সড়কে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁর ভাতিজি ইসমত আরা তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
কালমেঘা গ্রামের ঝুট ব্যবসায়ী এনাম হাসান জানান, সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে অর্থ সংগ্রহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে বিকেলের মধ্যে জামাল উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।
জামাল উদ্দিন উপজেলার কালমেঘা গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে জামাল উদ্দিন পৈতৃক ভিটাসহ অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং প্রায় ১২ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।
জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিল দাবি করেন, বিদেশে থাকাকালে উপার্জিত প্রায় সব অর্থই জামাল উদ্দিন তাঁর স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও জামাল উদ্দিনকে ৪ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন, যা এখনও ফেরত পাননি। তিনি বলেন, “দুই দিন আগে ফেসবুকে দেখলাম, আমার ভাইকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার। তিনি জানান “প্রায় কয়েক মাস আগে আমি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছি। বর্তমানে তিনি আমার স্বামী নন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে অমানবিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, “বিষয়টি পারিবারিক হলেও একজন অসুস্থ মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।”