জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাদিয়া সিদ্দিকী। অভিযানে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় জালের মালিক বা সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাদিয়া সিদ্দিকী বলেন, “কারেন্ট জাল দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ জালের কারণে ছোট মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে ধ্বংস হয়, যা প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী কারেন্ট জাল উৎপাদন, মজুত, পরিবহন, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অভিযান শেষে জামালগঞ্জ বাজারসংলগ্ন একটি ফাঁকা স্থানে জব্দ করা ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল নিয়ে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা মৎস্য বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তাই অভিযানের পাশাপাশি জেলে ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচারণা চালানোরও প্রয়োজন রয়েছে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্কেলপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও জলাশয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল এবং নিষিদ্ধ মৎস্য আহরণ সামগ্রীর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছে বিভাগটি।