২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে হঠাৎ বয়স্ক ভাতার তালিকা হালনাগাদ করার সময় মৃত দেখানো হলেও জীবিত আছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ গ্রামের মো: আবুল কাশেম (৭০)। কাগজপত্রে ২০১৪ সালে মারা যাওয়ার পর থেকেই নিজেকে জীবিত করতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আজ তিনি ক্লান্ত। আবুল কাশেমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাগজপত্রে তাকে ‘জীবিত’ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলের দিকে সরেজমিনে পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড লোহাগাছ গ্রামের বটতলা মোড় এলাকায় নিজ বাড়িতে গিয়ে এসব কথা জানা যায়।
ভুক্তভোগী আবুল কাশেম শ্রীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড লোহাগাছ গ্রামের মৃত মাঈন উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সত্তরোর্ধ্ব মো: আবুল কাশেম জন্মসূত্রে ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার পৈতৃক নিবাসও এই গ্রামে। অন্যদের মতো তারও আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। তবে, সেটি দিয়ে ২০১৭ সালে বয়স্ক ভাতার টাকা উঠাতে গেলে তাকে বলা হয় "আপনি মৃত"। যে কারণে আর টাকা পাওয়া যাবে না। এ কথা শুনে হতোভম্ব কাশেম ছুটে যান উপজেলা নির্বাচন অফিসে।সেখানেও তাকে জানানো হয়,১৬ বছর আগে বরিশালে গিয়ে তিনি মারা গেছেন। এরপর থেকেই আরেকবার নিজেকে জীবিত করার চেষ্টা শুরু করেন আবুল কাশেম। একাধিক বার আবেদন করেও এখনো পর্যন্ত নিজেকে জীবিত করতে পারেননি বলে জানান আবুল কাশেম ও তাঁর পরিবার। দাপ্তরিক ভুলের কারণে আর যাতে কোনো জীবিত মানুষকে মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে হয়রানি করা হয় এমন দাবী সচেতন মহলের।
নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে মো: আবুল কাশেম বরিশালের বাবুগঞ্জের একটি ইউনিয়নে মাইগ্রেশন করেন। একই বছরে তিনি মারা গেছেন মর্মে উনার পক্ষে আজিজুর রহমান নামের একজন আবেদন করে তাঁর মৃত্যুর সার্টিফিকেট দাবি করেন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের সাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে তাকে মৃত ঘোষণা হয়। একই সাথে ভোটার আইডি কার্ডও কার্তন করা হয়।'
আবুল কাশেম চোখের পানি ছেড়ে বলেন,' কয়েকটা ট্যাহা বয়স্ক ভাতা পাইতাম। হেইডাও বন্ধ করে দিয়েছে। আমি বলে মইরা গেছি। বাইচ্চা থাকতেও আমাকে মাইরাইলসে কেমনে মাইন্না লই..!। মেম্বার চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে জুতা তলি ছিড়া গেছে। আর কবে জেতা হইমু।'
স্থানীয় মকবুল ইসলাম বলেন,' 'আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় ভাই আবুল কাশেম। উনি সবসময়ই আমাদের চোখের সামনে আছে। আজও একসাথে চা খেয়েছি। কয়েক বছর আগে শুনলাম তিনি নাকি মরে গেছে। আমরা কবর দিলাম না, জানাজা দিলাম না তাইলে মরলো কেমনে..?
আমির হোসেন নামে একজন বলেন, উনাকে দীর্ঘদিন ধরেই চিনি। অত্যন্ত ভালো মানুষ। উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে আবুল কাশেমকে জীবিত করে ভোটার তালিকায় পুনর্বহালের জোর দাবি করছি।'
মৃতের তালিকায় নাম থাকায় আবুল কাশেমের বয়স্ক ভাতা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বাহা উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন,' আইডি কার্ড বিষয়ে সমাধান করবে নির্বাচন অফিস। কার্ডে জীবিত থাকলে আবেদনের মাধ্যমে আবারও তাকে ভাতার আওতায় আনা হবে।'
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তামান্না রশিদ বলেন,' আমি এ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আগে কয়দিন আসছেন সেটা আমি জানি না। আজকে উনার কাগজপত্র বিবেচনা করে বুঝতে পারছি উনি মাইগ্রেশনের পর বাবুগঞ্জ চলে যাওয়ার পর সেখানেই তিনি মারা গেছেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। সেই উপজেলায় গিয়ে আইডি কার্ডে কর্তন সংশোধন করতে হবে। সেখানে যোগাযোগ করলে সমাধান হবে।'
জীবিত মানুষকে ভোটার আইডি কার্ডে মৃত দেখানো দুঃখজনক জানিয়ে গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন,' আজই আমাদের জেলা অফিসে পাঠিয়ে দেন। এখানে ফিঙ্গার দিয়ে যাচাই-বাছাই করে দেখি। এখান থেকে সমাধান করা গেলে আমরা করে দিবো। আর না হলে কি কিভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন করা যাবে সে প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।'