ঢাকা | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর চিলাহাটি-পার্বতীপুর রেলপথের ১১টির মধ্যে ৬টি স্টেশনই বন্ধ

author
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৮ আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
ad003
উত্তরের জেলা নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে পার্বতীপুর রেলপথে ১১টি স্টেশনের মধ্যে ৬টি স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার ট্রেন যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দূরবর্তী স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে চড়তে হচ্ছে। এতে করে ওইসব এলাকার যাত্রীদের সময় ও অর্থের যেমন ব্যয় বাড়ছে তেমনি, এসব পরিত্যক্ত স্টেশনগুলোর অব-কাঠামো নষ্ট হওয়া, জায়গা দখলসহ ষ্টেশনগুলো ও আশেপাশের এলাকাজুড়ে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যাযয়, চিলাহাটি-পার্বতীপুর রেলপথে ১১টি স্টেশন রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-চিলাহাটি, মির্জাগঞ্জ, ডোমার, তরুণীবাড়ি, নীলফামারী, নীলফামারী কলেজ, দারোয়ানী, খয়রাত নগর, সৈয়দপুর, বেলাইচন্ডি ও পার্বতীপুর।

জনবল সংকটে প্রায় ২০ বছর ধরে মীর্জাগঞ্জ, তরুণীবাড়ী, নীলফামারী কলেজ, দারোয়ানী, খয়রাতনগর, ও বেলাইচন্ডি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর হয়ে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী রুটে ছয় জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন এবং একটি মেইল ট্রেন চলাচল করে। আগে এ পথে দু’টি লোকাল ট্রেন চললেও লোকসানের অজুহাতে তা’ বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপরই একে-একে বন্ধ হয়ে যায় এ ৬টি স্টেশনের কার্যক্রম। এতে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি যেমন বেড়েছে তেমনি, অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে স্টেশন ভবন, লুপ-লাইন ও রেলওয়ের মূল্যবান অব-কাঠামো। এরইমধ্যে বেদখলে চলে গেছে স্টেশনসংলগ্ন বিপুল পরিমাণ জমি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্ধ স্টেশনগুলোর অব্যবহৃত অব-কাঠামো ও সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তবে, স্টেশনগুলো পুনরায় চালু কিংবা সম্পদ সংরক্ষণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

সরেজমিন খয়রাতনগর ও দারোয়ানী স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, আধাপাঁকা টিনশেড ভবনগুলো গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। টিকিট কাউন্টার, স্টেশন মাস্টারের কক্ষ ও যাত্রীদের বিশ্রামাগার অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

এলাকার লোকজন বলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের উলোটপাড়া গ্রামের ভাষা-সৈনিক ও যুক্তফ্রন্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী খয়রাত হোসেনের নামে স্টেশনটির নামকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি পরিত্যক্ত।

স্থানীয় বাসিন্দা মিরু জানান, খয়রাতনগর স্টেশন থেকে উত্তরা ইপিজেডের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। ইপিজেড পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং স্টেশনটি চালুর সম্ভাব্যতা নিয়ে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করলেও অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিনেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি।

দারোয়ানী স্টেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ জানান, স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার পর সেই বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

সৈয়দপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন জানান, বর্তমানে উত্তরা লোকাল ট্রেন যা’ আগে উত্তরা এক্সপ্রেস নামে চিলাহাটি-রাজশাহী পর্যন্ত চলাচল করতো তা’ এখন সান্তাহার থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত চলাচল করে। ট্র্রেনটি চিলাহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা গেলে উত্তরা লোকাল ও রকেট মেইল ট্র্রেনের স্টপেজ দেয়া সম্ভব হবে। এতে স্টেশনগুলো আবার সচল হবে, আন্তঃনগর ট্রেনে বিনা-টিকিটে ভ্রমণ কমবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং শতকোটি টাকার রেল-সম্পদও সুরক্ষিত থাকবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT