গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আল আমিন ও রিনা আক্তার নামে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি পূর্বের স্বামীর ঘর থেকে চলে প্রেমিককে বিয়ে করার পর থেকেই পারিবারিক কলহ চলছিল।
শনিবার(৮ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর আউটার সিগনালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মোছাঃ রিনা আক্তার (২৫) উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়ার কন্যা। ও প্রেমিক আল আমিন। তার বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। নিহত রিনা স্থানীয় আরবেলা ফ্যাশন কারখানার শ্রমিক ছিলেন। প্রেমিক আল আমিন স্থানীয় হ্যামস গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন,' শনিবার দুপুরের পর থেকে তারা দুজন রেলপথ ধরে হাঁটাহাটি গল্প খুনসুটি করছে। দীর্ঘ সময় যাবৎ তারা রেলপথে বসে গল্প আড্ডায় সময় কাটিয়েছেন। হঠাৎ করে সন্ধ্যার দিকে মৃত্যুর খবর পাই।'
পথচারী হাসনা বেগম, ' সন্ধ্যার দিকে রেলপথে হাঁটাহাটি করার সময় দুজন ছেলে ডাকাডাকি করে জানায় দুজন মানুষ রেলপথ মারা গেছে। এরপর আশপাশের লোকজন গিয়ে দুজনের মরদেহ দেখতে পাই।'
নিহত রিনা আক্তারের ভাই সুমন বলেন,' পূর্বের স্বামীরর ঘর থেকে চলে এসে প্রেমিক আল আমিনকে বিয়ে করে বোন। বিয়ের পর থেকে তার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নাই। কি কারণে আত্নহত্যা করছে তা বলতে পারবো না।'
স্থানীয় বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম সিরাজী বলেন, বিকালের দিকে এক ছেলে এক মেয়ে ময়মনসিংহ গামী কমিউটার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এরপর ট্রেনের নিচে পড়ে তাদের মরদেহ অনেক দূর নিয়ে যায়। মরদেহের অংশ রেলপথের প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক জুড়ে পড়ে রয়েছে। হাত এক জায়গায়, মাথা এক জায়গায়, জুতোজোড়া এক জায়গায়, চুল এক জায়গায় পড়ে রয়েছে।
শ্রীপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শামিমা জাহান বলেন,' ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের ডাউন পয়েন্টের ৩২৫-এর ১ কিলো এলাকায় দুজনের মরদেহ পড়ে আছে। এমন খবর জানতে পেরে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দিয়েছি।'
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক এসআই ফারুক হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন,' সন্ধ্যার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে মরদেহ উদ্ধারের কাজ করছি। খোঁজ খবর নিচ্ছি। তদন্তের পর এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।'