ঢাকা | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘উপজাতি’ নয়, ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি চাই: দুর্গাপুরে ৯ দফা দাবি

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৯ আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫২
ad003

‘আমরা আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নই’—এমন দাবি তুলে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছেন নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ। বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ, ভূমির অধিকার সংরক্ষণ, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন এবং জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দের দাবি জানান।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠনের সভাপতি পল্টন হাজং বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভূমি, বাসস্থান, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। এসব জনগোষ্ঠীর অনেকের মাতৃভাষা এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। বিশেষ করে সমতলের ডালু ও হদি জনগোষ্ঠীর ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষা হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভাষা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হলেও এর কার্যকর সুফল মাঠপর্যায়ে আরও দৃশ্যমান করা প্রয়োজন।

পল্টন হাজং বলেন, বর্তমানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ওরাঁও ও গারো—এই পাঁচটি ভাষা মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যান্য আদিবাসী ভাষাকেও একইভাবে শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রতিনিধি সুলগ্না রেমা বলেন, ২০০৭ সালে জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্রে আদিবাসীদের ভূমি, সংস্কৃতি ও অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে। তাই নিজেদের ভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ এবং ভূমি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘উপজাতি’ হিসেবে যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তা তারা গ্রহণ করেন না। তাদের দাবি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

সুলগ্না রেমা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আদিবাসীদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিরিশিরি ওয়াইডব্লিউসিএর সাধারণ সম্পাদক লুদিয়া রুমা সাংমা বলেন, বিশ্ব আদিবাসী দিবসের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসীরা তাদের অধিকার ও দাবি তুলে ধরছেন। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়, ভূমি কমিশন গঠন এবং জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াইডব্লিউসিএর প্রোগ্রাম অফিসার শারদী মৌরশী ঘাগ্রা, কমিউনিটি অর্গানাইজার ডেনী কসবিয়া দিওসহ বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT