নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম থাউসাল পাড়া। ওই গ্রামে বসবাস করেন সুমন আলী। পেশায় একজন দরিদ্র কৃষক। ওনার তিন বছর বয়সী সন্তান সারা মনি। এদিক ওদিক ছুটাছুটি করে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখতো সে। শুকনো মৌসুমে গ্রামের অনেক পরিবারই খড়কুটো দিয়ে বাহিরে রান্নার কাজ করে থাকেন। চলতি বছরের ১৭ই জানুয়ারী চুলার আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় সারা মনি।
সন্তানের এমন করুণ পরিনতি দেখে বাবা-মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। পরিবারের সাধ্যমতো সকল চিকিৎসাই করিয়ে যাচ্ছেন সুমন আলী। চিকিৎসার বইতে বইতে যেনো ক্লান্ত হয়ে গেছেন তিনি। সারামণির পিঠের চামড়ার সাথে বাম হাত লেগে যায়, পিঠ ও হাতের চামড়া যেনো এক হয়ে যায়। শরীরের ক্ষতের কারনে তেমন কাপড় পড়ানো যায় না সারা মনির গায়ে।
চোখের সামনে সন্তানের এমন পরিনতি দেখতে দেখতে বুকে পাথর চাঁপা ক্ষোভ নিয়ে কাউকে কিছু বলতে পারছেন না সুমন আলী। কাঁধে নিয়েই কি সারাজীবন বইতে হবে সন্তানের ভার ? সারা মনি কি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে না ? এমন হাজারো প্রশ্ন জাগে তাদের পরিবারে। হয়তো আর চিকিৎসা করাতে পারবে না সুমন আলী। মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার হাল ছেড়ে দেন তিনি।
চিকিৎসকগণ সুমন আলীকে জানিয়েছেন, অপারেশন সহ উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে সারা মনি ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা হাত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বহু টাকার প্রয়োজন। এমন খবর শুনে হাল ছেড়ে দেন সুমন আলী।
আগুনে দগ্ধ শিশু সারা মনির চিকিৎসা করতে পারছেন না সুমন আলী। এমন খবর জানতে পারেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরবর্তিতে মানবিক কাজের মধ্যে চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা টিম পাঠিয়ে দেন সুমন আলীর বাড়িতে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে কথা বলে আজ (৯ অগাস্ট) ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে শিশু সারা মনিকে ভর্তি ও সার্জারীসহ উন্নত চিকিৎসা করানো ব্যবস্থা করেন।
সারা মনির পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। এবং সারা মনির দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন সুমন আলী।
স্থানীয়রা জানান, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার যে উদ্যোগ নিলেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই সহায়তা আমরা চীরদিন মনে রাখবো। মহান আল্লাহ যেনো উনাকে নেক হায়াত দান করেন। আসুন আমরা সবাই দোয়া করি, সারা মনির চিকিৎসা শেষে সে যেনো সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারে।
যথা সময়ে সারা মনির চিকিৎসা শুরু করতে পেরে, মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেইসাথে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন ৩ বছরের এই ছোট শিশুটি যেনো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসতে পারে।