একসময় পাহাড়ি জনপদে নানা অভিযোগে আলোচিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘বনের রাজা’ নামে। সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচয় এখন অতীত। বর্তমানে বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি টিনের দোকানই তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামের মৃত জাফর আলমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। একসময় বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৬ সালে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হলেও অতীতের মামলা ও বিরোধ তাকে পিছু ছাড়েনি। পরে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় চার বছর কারাগারে কাটান তিনি। তার ভাই আলমগীরও কারাভোগ করেন দীর্ঘ সময়।
কারামুক্তির পর নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হন জাহাঙ্গীর। হারিয়ে যায় আগের পরিচিতি, হাতে ছিল না অর্থ। স্ত্রী, ছয় মেয়ে ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে ধারদেনা করে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন ছোট দোকান।
বর্তমানে সেই দোকানের আয় দিয়েই চলছে তার সংসার। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। কখনো বিক্রি ভালো হয়, আবার কখনো খালি হাতেই ফিরতে হয়। বাড়ির আঙিনায় লাগানো কিছু ফলদ গাছ থেকেও সামান্য আয় করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। এখন শান্তিতে বাঁচতে চাই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেক স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি না।
তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমরা আর কোনো অশান্তি চাই না। আমার ছেলেরা এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, মানুষ ভুল করলে পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়া উচিত। বর্তমানে জাহাঙ্গীর খুব সাধারণ জীবনযাপন করছেন।
একসময় যে নাম ঘিরে ছিল নানা আলোচনা, আজ সেই মানুষটি ছোট্ট দোকানে বসে অপেক্ষা করেন ক্রেতার। অতীত পেছনে ফেলে এখন তার লড়াই শুধুই বেঁচে থাকা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার।