কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার নেত্রকোণা জেলার শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হয়েছেন মডেল থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন।
অভিন্ন মানদণ্ডে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের সার্বিক কর্মমূল্যায়নে জেলার সব থানার এসআইদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তিনি। এর আগে এপ্রিল মাসেও জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছিলেন মোশাররফ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে নেত্রকোণা পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস ড্রিলশেডে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুনরায় জুলাই মাসে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্লা রক্ষা, অপরাধ দমন, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও সার্বিক কর্মদক্ষতার বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নিয়ে জুলাই মাসের কর্মমূল্যায়ন করা হয়। সেই মূল্যায়নে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় এসআই মো. মোশারফ হোসেনকে জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
টানা দুই মাস জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হওয়ায় জেলা পুলিশের অভ্যন্তরে তার কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে এটি দায়িত্ব পালনে অন্য পুলিশ সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে দেখছে জেলা পুলিশ।
মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় জেলার বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও ইউনিটের জুলাই মাসের সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়। অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জনকারী কর্মকর্তা ও ফোর্স সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, পুলিশি সেবা ও বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় নেত্রকোণা পুলিশ লাইন্স মাঠে মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন। পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
প্যারেড শেষে পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা, অসুবিধা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিগত সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন আবেদন ও সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। পরে চলতি মাসে পুলিশ সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খালিয়াজুরি সার্কেল) সাহিদুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মায়িশা ফান্নানাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ইন্সপেক্টর (তদন্ত), তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন।