ঢাকা | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত

চবি সাবেক ছাত্রদল নেতা হাফিজের খোঁজ নিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতারা

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪২
ad003
চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির এক সময়ের জনপ্রিয় তুখোড় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হাফিজ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হসপিটাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (সাবেক পঙ্গু হসপিটাল) ১২২৭ নাম্বার কেবিনে চিকিৎসাধীন। 

গত ৯ আগস্ট বেলা এগারোটার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হন আব্দুল হাফিজ (৪৫)। তিনি মোটর সাইকেল চালাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা এক যুবকের মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ওই যুবক ও আব্দুল হাফিজসহ তিন জন আহত হন। আহতদের মধ্যে হাফিজের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রবিবারই তাকে ঢাকার পঙ্গু হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়।

খবর পেয়ে হাসপাতালে খোঁজ খবর নিতে আসেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ও চিটাগং ইউনিভার্সিটি এক্স স্টুডেন্টস্ ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, সাধারণ সম্পাদক জি এম ফারুক স্বপন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও চবি সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক তাজুল ইসলাম সহ চবি ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ। তারা আহত সাবেক ছাত্রদল নেতা হাফিজের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন।

চিকিৎসকরা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হাতে ও পায়ে প্লাস্টার দিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর হাত ও পায়ের ফুলা খানিকটা কমার পর প্রয়োজন হলে অপারেশন করা হবে। তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন চিকিৎসকরা। 

আহত হাফিজ যায়যায়দিনকে বলেন, তিনি শক্তি ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীর এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। ঘটনার আগে তিনি পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে তেল ভরে অফিসে যাচ্ছিলেন। ওই সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ (ব্যাচেলর অফ বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন) অনার্স এবং এমবিএ (মাস্টার্স অফ বিজনেজ এডমিনিস্ট্রেশন) সম্পন্ন করেছেন। ইউনিভার্সিটি জীবনে ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছিলেন ছাত্রদলের চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি শাখার পর পর দুই বারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহ সভাপতি। ভালোবেসে দলের রাজনীতি করেছেন। এরপর ইউনিভার্সিটি জীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। পারিবারিকভাবে ২০১৩ সালে বিয়ে হয় রিপার সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই ছেলে। বড় ছেলে রাফিন ক্লাস সিক্সে পড়ে। ছোট ছেলে রাহিমের বয়স তিন বছর। 

তিনি বলেন, ‘তাদের পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুরে। তবে পিতার চাকরির সুবাদে বর্তমানে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর স্থায়ী বাসিন্দা তারা। তার পিতা আব্দুল বাতেন ছিলেন চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি প্রশাসন বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর। মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। তারা চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তিন বড় ভাই হচ্ছেন- আব্দুল কাদের, আব্দুল ওয়াদুদ ও আব্দুল মাহবুব। হাটহাজারীতে অবস্থিত নিজস্ব পাচ তলা বাড়িতেই সব ভাই মিলে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করেন। সম্পদ বলতে শুধু বাড়িটাই। অন্য তিন ভাই চাকরিজীবী। সবাই সাধারণ জীবন যাপন করেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘তার চিকিৎসা যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে তিনি আর্থিক সংকটে পড়বেন। যদিও অফিসের তরফ থেকে তার চাকরির নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এমনকি মাসিক বেতন পাবেন বলেও জানিয়েছে। তবে কোনো কারণে যদি অফিস সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, তবে তাকে আর্থিকভাবে চরম বেকায়দায় পড়তে হবে। 

স্ত্রী রিপা এক্সরে ফিল্ম দেখিয়ে জানতে চান, সত্যিই আপনার ভাই পুরোপুরি ভালো হবে তো? তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘সত্যিই যদি আপনার ভাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে না পারেন, তাহলে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপাকে পড়ব।’ 

এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ধরনের হাত ও পা ভাঙা অনায়াসে ভালো হয়ে যায়। তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। বেশ সময় লাগবে। নিয়ম মেনে চললে বাকি জীবন সুস্থভাবে বেচে থাকতে পারবেন। জটিল কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন না-ও হতে পারে। তবে চিকিৎসা ব্যয় কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি চিকিৎসকরা।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT