ঢাকা | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে বিস্ফোরক ও তাজা বোমা উদ্ধার ঘটনায় ২ মামলা, রিমান্ডে ১

author
আসাদুজ্জামান খাইরুল

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১
ad003
সাভারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ১০টি তাজা পাইপ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর ছয় সদস্যের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬) নামের এক যুবককে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি প্রেসার কুকারসদৃশ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি মামলাতেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোর অভিযান শুরু করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় নব্য জেএমবির একদল সক্রিয় সদস্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি বিশেষ দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার ফেকামারা এলাকার মো. হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে (২৬) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগীরা কৌশলে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে সিটিটিসি। ওই বাসাটি জঙ্গিরা ডেরা ও বিস্ফোরক তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করছিল। সেখান থেকে ৯৮ শতাংশ ঘনমাত্রার মারাত্মক ক্ষতিকর সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম নাইট্রেট পাউডার, আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) তৈরির ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলার, ভোল্টমিটার, জিপার ভর্তি বিয়ারিং বলসহ বিস্ফোরক তৈরির প্রায় আড়াই ডজন আলামত জব্দ করা হয়।

একইসাথে ওই বাসা থেকে ১০টি প্রস্তুতকৃত তাজা পাইপ বোমা (আইইডি) উদ্ধার করা হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাগুলো নিরাপদে ধ্বংস করে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে সিটিটিসির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রথম মামলাটি করেন। এজাহারভুক্ত ছয় আসামি হলেন: ১. মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬) (গ্রেপ্তারকৃত) ২. মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পিতা: মৃত ইসমাইল, সাভার শ্যামপুর ৩. মো. আক্কাস আলী (৩০), পিতা: মো. আমিন উদ্দিন খান, সুজানগর, পাবনা ৪. কামাল হোসেন (৪৫), দিয়াখালী, আশুলিয়া ৫. রাখী (৩০), দিয়াখালী, আশুলিয়া ৬. রাকিব (৩০), দিয়াখালী, আশুলিয়া এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাভারের সাধাপুর এলাকায় উদ্ধার হওয়া প্রেসার কুকারসদৃশ বস্তুর ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসাইন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় পৃথক দ্বিতীয় মামলাটি করেন। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শ্যামপুরের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি আরিফকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মামুন, আক্কাস, কামাল, রাখী ও রাকিবসহ অজ্ঞাত অন্য আসামিরা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনায় লিপ্ত ছিল। তাদের গ্রেপ্তারে সাভার মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসি, র‍্যাব (RAB) ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথভাবে কাজ করছে। সাধাপুরের ঘটনার পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করতেও জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT