ঢাকা | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে সাঁকো ভেঙে পারাপার বন্ধ, ভোগান্তিতে ২০০ পরিবার

author
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০২
ad003
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে লাচ্ছি নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটি ভেঙে গিয়ে পারাপার বন্ধ আছে।  চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবারের হাজারো মানুষ। এতে করে তাদের উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপারে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থী,রোগী ও স্থানীয়দের যাতায়াতে।এলাকাবাসীর দাবি অস্থায়ী সাঁকোর বদলে এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। 

উপজেলা দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশগারা গ্রাম বাসিন্দাদের দৈনন্দিন পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল এই সাঁকোটি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ সাঁকোটি বছরে প্রথম বর্ষায় হঠাৎ করে মাঝ অংশে ভেঙে পড়ায় মারাত্মক বিপাকে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। সাঁকোটিতে পায়ে হেঁটে বা বাইসাইকেল নিয়ে পার হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ছিট বাঁশগাড়া গ্রামের প্রধান সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ পারাপার হত। কিন্তু সাঁকো ভেঙে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পড়েছে দু পারের বাসিন্দারা। বিশেষ করে ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। আপরদিকে  রোগীদের নিয়ে ও জমির উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বিপাকে পারেছে কৃষকরা। ভাঙা সাঁকো দিয়ে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ায় এখন স্থানীয়দের বাধ্য হয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত যাতায়াত ভাড়া।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে একটি টেকসই পাকা ব্রিজের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানো হলেও মিলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই ভোগান্তি নিরসনে ভেঙে যাওয়া স্থানে অস্থায়ী ভিত্তিতে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এবং দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

স্থানীয় আব্দুল হাসেম জানায়, সাঁকোটা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের চলাফেরা একদম বন্ধের মতো। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। যেকোনো সময় পানিতে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহŸান তার। 

জুলফিকার বলেন, সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ারও কোনো সহজ উপায় নেই। পাশাপাশি, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে গিয়ে অপচয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ।
দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  সনাতন চন্দ্র রায় বলেন,বাঁশগারা গ্রাম ছিটমহল গ্রামের কাঁঠের নির্মিত সাঁকো পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার লোকদের  দুর্দশা শেষ নাই। আমি উপজেলা প্রশাসনকে মেরামতের দাবি জানিয়েছি। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিদর্শন করে, মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। যেন সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT