ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত: উল্লাসে ভাসছে ঠাকুরগাঁও, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল

author
জাকির মোস্তাফিজ মিলু , ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
ad003
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার খবরে তাঁর জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশের শীর্ষ পদের জন্য মনোনীত হওয়ায় আনন্দে ভাসছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

বৃহস্পতিবার বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁও শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শহরের দলীয় কার্যালয় ও কালিবাড়িতে মির্জা ফখরুলের পৈতৃক বাসভবনে ভিড় জমান সর্বস্তরের মানুষ। আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান সবাই।

ছাত্রজীবন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন কলেজ শিক্ষক। পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক সংকটে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে ও এক সুতোয় বেঁধে রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম থেকে শুরু করে একাধিকবার কারাবরণ—প্রতিটি ধাপেই ধৈর্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওবাসীর মতে, মির্জা ফখরুলের এই অর্জন পুরো উত্তরবঙ্গের জন্য এক বিরাট গৌরব। ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, “তিনি আমাদের অবহেলিত জনপদের সর্বকালের সেরা ব্যক্তিত্ব। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। মন্ত্রী হিসেবে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ইপিজেড ও বিমানবন্দর নির্মাণের যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হলেও সেসব উন্নয়নমূলক কাজ আরও গতিশীল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

ঠাকুরগাঁও বিএমএ সভাপতি ও সাবেক দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডাঃ এবিএম খায়রুল কবীর বলেন, “এই সাফল্য কেবল তাঁর একার নয়, ঠাকুরগাঁওসহ পুরো উত্তরবঙ্গের। আমরা নিজেরাই আজ চরম আনন্দে ও গৌরবে শিক্ত হচ্ছি। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।”

মির্জা ফখরুল ইসলামের আজকের এই অর্জনের পেছনে তাঁর পরিবার ও সহযোদ্ধাদের ত্যাগ চিরস্মরণীয়। তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমীন, চাচা সাবেক স্পিকার মির্জা গোলাম হাফিজ এবং ভগ্নীপতি সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান রাজনীতির অঙ্গনে পরিচিত নাম। এছাড়া সংকটময় সময়ে পাশে থাকা তাঁর ছোট ভাই জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিসিসিআই পরিচালক মির্জা ফয়সাল আমীন, স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা শাফারুহ তাঁর সংগ্রামী জীবনের শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন।

মনোনয়নের প্রতিক্রিয়ায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন বলেন, “আমাদের পরিবার অত্যন্ত আপ্লুত। সারাজীবনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সততার যোগ্য স্বীকৃতি আজ তিনি পেলেন। দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমরা অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “আজকের দিনটি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দুঃসময়ে দলের জন্য তাঁর অবদান মূল্যায়িত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে যে সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করবেন এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT