নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন, উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক। ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা জোৎস্না আক্তার।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট মোবাইল ফোন রিসিভ না করাকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হকের সাথে সহকারী শিক্ষিকা জোৎস্না আক্তারের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ওই শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ঘাড় ধরে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে বের করে দেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি তদন্ত দল সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। তদন্তে শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, "একজন সরকারি শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারা এবং চুল ধরে টেনে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।"