গাজীপুরের শ্রীপুরে পৃথক ঘটনায় আলাদা স্থান থেকে গৃহবধূ নিলুফা আক্তার ও পোশাক শ্রমিক ইমরান হোসেন অন্তরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এবং দুপুরে ওই দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নিলুফা আক্তার (২৪) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের পোশাক শ্রমকি ইমনের স্ত্রী এবং ইমরান হোসেন অন্তর (২৪) নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কালাঘর (পাঁচগাঁও) গ্রামের লালচানের ছেলে।
লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ ।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে নিলুফার সংসারে ঝগড়াঝাটি ছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গৃহবধূ নিলুফা আক্তার নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি ছোট পুকুরে নিলুফার মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী পোশাক শ্রমিক ইমনকে আটক করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
অপরদিকে, অনলাইন জুয়া ও অতিরিক্ত ঋণের চাপে পোশাক শ্রমিক ইমরান হোসেন অন্তরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইমরান হোসেন অন্তর ও তাঁর স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার উপজেলার জৈনা বাজারের আশা রোড এলাকায় জলিল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে এস কিউ গ্রুপের এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটিডে পোশাক কারখানায় চাকরি করতো। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে অনলাইন জুয়ায় আসক্তির বিষয়টি পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় ও স্বজনদের বরাতে দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ইমরান ও তাঁর স্ত্রী একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে তাঁর স্ত্রী স্বর্ণা ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়ারা ছুটে এসে ইমরানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাই হৃদয় জানান, ইমরান হোসেন অন্তর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় আট মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের মা মারা যায়। এর প্রায় দেড় মাস আগে তাঁর একটি সন্তানও মারা যায়। এসব ঘটনায় ইমরান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
তাদের পাশের ঘররে কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানান, ইমরান ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছে। ইমরান তাঁর স্ত্রীর বেতনের টাকা নিয়ে মোবাইলে অনলাইন জুয়া খেলে। ঘটনার রাতেও টাকা-পয়সা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম যায়যায়দিনকে বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ইমরানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অনলাইন জুয়ার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলতে পারিছ না। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান।'