যাযাদি রিপোর্ট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য মতে প্রতি বছর বিশ্বে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রায় ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ১৮৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। নিহতের মধ্যে শতকরা ৯২ জন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
রবিবার ঢাকার শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টর আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন সকলের জন্য প্রয়োজন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য উপস্থাপন করেন সেবাদানকারী সংস্থাটির রোড সেফটি প্রকল্পের সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
তিনি আরও জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশই পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, পৃথিবীতে সড়ক দূর্ঘটনা বেশী ঘটে ১৮৩টি দেশে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। তাই সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও আইনের সঠিক প্রয়োগ প্রয়োজন। অন্যথায় দেশে সড়ক দূর্ঘটনা ও দূর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা অসম্ভব।
আলোচনায় বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এবং এর বিধিমালা মূলত সড়ক পরিবহন খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এসব আইন যথেষ্ট না। সড়ক অবকাঠামো ও যানবাহনের নিরাপত্তা, সড়ক ব্যবহারকরীর নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সড়ক পরিবহন আইনে যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। তাই সড়কে সব ধরনের সুরক্ষা সম্পর্কিত সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে প্রয়োজন পৃথক ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ মূলত পরিবহন সংক্রান্ত আইন। তাই সড়ককে অধিকতর নিরাপদ করতে ও দূর্ঘটনা কমাতে এই আইন ও বিধিমালা যথেষ্ট না। এ জন্য জাতিসংঘ বহুমুখী যানবাহন ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার ও সড়ক দূর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার প্রস্তাব বাস্তবায়নে তাগাদা দিয়েছে। এজন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের কমিউনিকেশন অফিসার তরিকুল ইসলামসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।