ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
‘ডাক্তার বলেছে, এক মাসের মধ্যে অপারেশন না করলে....’

তিন বছরের জয়ন্তর হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র, অর্থাভাবে থেমে গেছে চিকিৎসা

author
Editor

প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৫ সকাল ৭:৩৬
ad003
ইবি প্রতিনিধি 

ক্যাম্পাসের পথ ধরে এগিয়ে গেলে লালন শাহ্ হলের পকেট গেট সংলগ্ন জরাজীর্ণ একটি টিনেশেডের ঘর। ভিতরের অবস্থাও খুবই করুণ। এই ছোট ঘরটিতে খুব সাধারণ অথচ ভালোবাসায় ঘেরা এক পরিবারে বেড়ে উঠছে মাত্র সাড়ে তিন বছরের শিশু — জয়ন্ত কুমার।

মা আর দাদির কোলে খুব আদুরে ভঙ্গিতে মায়াভরা মুখে স্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে থাকলেও আসলে সে লড়ছে এক ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণার সাথে। জন্মের পর থেকেই তার হৃদপিণ্ডে তিনটি ছিদ্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ ইলিয়াস পাটোয়ারী। অপারেশন করে পুরোপুরি সুস্থ করতে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

জয়ন্তর বাবা জয় কুমার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে অস্থায়ী চুক্তিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন। মাসে আয় মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়ে পরিবারের খরচ মেটানোই কষ্টসাধ্য। সেখানে জয়ন্তর চিকিৎসার খরচ জোগানো হয়ে গেছে কল্পনার সমান। পরিবারে দারিদ্র্যের মেঘ থাকলেও এমন বজ্রপাত কেউ কল্পনা করেনি। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জয়ন্তর দাদি বলেন, “আমার নাতিটা জন্মের পরে দেখতে হলুদাভ হয়ে গিয়েছিল। এরপর রাজশাহীতে ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার বলেছেন, ওর হার্টে তিনটি ছিদ্র আছে। খুব কান্না করে, বুক ব্যথা করে, রাতে ঘুমায় না, কিছু খেতে চায় না—আমার নাতিটা। এরপর ঢাকায় ডাক্তার দেখিয়েছি। তিনি ওষধ দিয়েছেন এবং দশ দিন সময় দিয়েছেন । আমরা অনুরোধ করে এক মাসের কথা বলেছি। এর মধ্যে অপারেশন না করলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করে তিনি আরো বলেন, “আমাদের নিজেদের কোনো বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি কিছুই নেই। সরকারি জায়গায় থাকি। পরিবারের অবস্থা খারাপ। আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও কারো অবস্থা তেমন ভালো না। ওর (জয়ন্ত) খালা ঢাকায় থাকে, সে কিছু সাহায্য করেছে। আর বাকি ধার-দেনা করে অল্প কিছু টাকা জোগাড় করেছি ওষধ কেনার জন্য। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য ভিক্ষা চাই। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে সাহায্যের অনুরোধ করছি। আমার নাতিটা যেন ওর বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসতে পারে। ও যেন পরিবারে আলো ছড়াতে পারে।”

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়ন্তর বাবা জয় কুমার বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করি। সামান্য আয় দিয়ে পরিবার চালাতে কষ্ট হয়। ওর ওষুধের টাকা, চিকিৎসার টাকা জোগাড় করাও কঠিন হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি জানিয়েছি। তাঁরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন। আমার ছোট বাচ্চাটির জন্য সকলের কাছে সাহায্যপ্রার্থী।”

সাহায্য পাঠানোর তথ্য:
নাম: জয় কুমার 
ঠিকানা: লালন শাহ্ হল সংলগ্ন পকেট গেট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
মোবাইল: ০১৩০৪৮৬৬০১৪ (রকেট/বিকাশ)

সমাজের সকলের সহযোগিতাই পারে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে, ছোট এই শিশুটিকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার পরিবারের কাছে। সকলের সামান্য সহযোগিতা হোক মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত— মানবিকতা বেঁচে থাকুক সমাজের প্রতিটি অঙ্গনে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
JJD_Online

JJD_Online

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT