নেছারাবাদের কামারকাঠি এলাকার মেধাবী ছাত্রী, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৃজিতা দাস (১৭) আর নেই।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। কামারকাঠী নব কুমার মাধ্যমিক বিদ্যায়ের ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে সৃজিতা ভর্তি হয়েছিল স্বরূপকাঠী শহীদ স্মৃতি কলেজে। মেধা, শিষ্টাচার ও শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে অল্প সময়েই কলেজ শিক্ষকদের প্রিয় ছাত্রী হয়ে ওঠে সে। বিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে সে ছিলো অগ্রগণ্য। রচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা প্রতিযোগিতায় নিয়মিত পুরস্কার জয়ী ছিল সৃজিতা।
স্থানীয় ‘কামারকাঠি অরণি পাঠাগার’-এর সক্রিয় সদস্য ছিল সৃজিতা। পাঠাগারে নিয়মিত পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেধা যাচাই প্রতিযোগিতায় তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। পাঠাগারের সদস্যরা জানানÍঅতীতের মতোই সম্প্রতি তুহান ও সৃজিতাকে নিয়ে পাঠাগারে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তারা। সৃজিতার মুখভরা স্বপ্নই ছিল কথোপকথনের কেন্দ্রবিন্দু। সৃজিতার মৃত্যুতে শহীদ স্মৃতি কলেজ পরিবারও শোকাহত।
কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান বলেন, “একাদশ শ্রেণিতে কলেজ জীবন শুরু করার আগেই অকালে ঝরে গেল আমাদের একটি কন্যা, একটি বিকশিত ফুল। কিছুদিন ক্লাস করতে পেরেছিল। পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও পরলোকগমন করে। নিয়তির নির্মম বিদ্রূপÍ আজ সকালেই ক্লাসে একটি বানানকে কেন্দ্র করে ওকে খুঁজছিলাম। পরে ওর অসুস্থতার কথা শুনি। ভাবছিলাম সুস্থ হলে ওকে দেখতে যাবো। কিন্তু সন্ধ্যায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।”
সৃজিতা দাস মানস কুমার দাসের একমাত্র কন্যা। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারে চলছে নিদারুণ শোকের মাতম। সান্তনার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা সৃজিতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তারা। অল্প বয়সে প্রতিভাবান এক শিক্ষার্থীর বিদায় এলাকায় তৈরি করেছে শূন্যতা। সৃজিতার স্বপ্নগুলো অপূর্ণ থেকে গেলেও তার স্মৃতি, মেধা ও মানবিকতা সকলের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে দীর্ঘদিন।