পুরোনো প্রবাদ “অতি লোভে তাঁতি নষ্ট” যেন সত্যি হয়ে দাঁড়াল এক ব্যক্তির জীবনে। ভাগ্য বদলের আশায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের অটোরিকশা চালক আব্দুর রহিম লোভনীয় প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
রহিমের দাবি, বাংলাদেশি ৩৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ সৌদির রিয়াল পাওয়ার স্বপ্নে তিনি নিজের সঞ্চয়, ধারদেনা ও সুদের ওপর টাকা ধার করে মোট তিন লাখ টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু রিয়াল ছিল প্রতারণা; প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে সব টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন তিনি। বর্তমানে রহিম দিশেহারা, কিভাবে সুদের টাকা পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত। তিনি এই প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে টাকা ফেরত এবং শাস্তির দাবি করছেন।
রহিম পল্যানের সংসার অটোরিকশা চালিয়ে কোনোমতে চলে। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বাইলাবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের আয় দিয়ে দু’বেলা খাবার জোটানোই ছিল তার লড়াই। ভাগ্য বদলের আশায় তিনি পা দেন এক লোভনীয় প্রতারণার ফাঁদে।
রহিমের সঙ্গে তার ভায়রা ভাই আল আমিনের মাধ্যমে আলিপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে পরিচয় হয় সেলিম হাওলাদারের সঙ্গে। সেলিম সেখানে চুরি-কানবালা বিক্রি করতেন, আর আড়ালে চলছিল রিয়াল দেখিয়ে প্রতারণার পরিকল্পনা।
প্রলোভন দেখিয়ে সেলিম রহিমকে বলেন, ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিলে ১২০০ পিস রিয়ালের নোট দেওয়া হবে। ব্যাংকে জমা দিলে ৩৬ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। বিশ্বাস গড়ে তুলতে তাকে দেখানো হয় ৫০ ও ১০০ রিয়ালের দুটি নোট। ২ ডিসেম্বর ভোলা দক্ষিণ আইচা ইসলামি ব্যাংকে এগুলো ভাঙিয়ে রহিম ৪৫০০ টাকা পান, যা তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করে।
এরপর রহিম নিজের সঞ্চয়, ধারদেনা এবং সুদের ওপর টাকা ধার করে তিন লাখ টাকা জোগাড় করেন। ৩ ডিসেম্বর সকালে রহিম ও আল আমিন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছান। টাকা প্রদানের আগে রিয়াল দেখতে চাইলে সেলিমের সহযোগীরা রহিমের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এই ধরনের চক্র সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও দারিদ্র্যকেই লক্ষ্য করে।