ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে এক কিলোমিটারে তিনটি অবৈধ ড্রেজার পাইপলাইন!

author
Editor

প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫৭
ad003
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া থেকে বৈদ্যেরবাজার পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়কটি এখন অবৈধ ড্রেজার সংযোগে ক্ষতবিক্ষত। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির মাত্র এক কিলোমিটার অংশেই একাধিক স্থানে কেটে বসানো হয়েছে বালুবাহী পাইপলাইন, যার সবই আইনবহির্ভূত।

সরকারি দপ্তরের সামনেই অবৈধ পাইপলাইন!

তথ্য অনুযায়ী, নিম্নোক্ত তিনটি স্থানে অবৈধভাবে সড়ক কেটে পাইপ বসানো হয়েছে:

১. সোনারগাঁ থানার সামনে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের দরজার সামনেই বসানো হয়েছে পাইপলাইন।

২. হাতকোপা এলাকায়, রাস্তার নিচ দিয়ে চালানো হয়েছে আরেকটি সংযোগ।

৩. পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন, বসানো হয়েছে বৃহৎ পাইপলাইন।

এসব পাইপলাইন স্থানীয়দের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের যাতায়াতে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।

রাস্তাটির গুরুত্ব অপরিসীম

এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে—

সোনারগাঁ থানা

উপজেলা পরিষদ

এসিল্যান্ড অফিস

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

স্থানীয় আদালত

ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তর


নিম্নমানের রাস্তার কাজ নিয়ে ক্ষোভ

রমজান মাসে শুরু হওয়া সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করার তাড়ায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানান, কাজের তদারকি না থাকায় ঠিকাদার দায়িত্বহীন আচরণ করছেন, সওজ কর্তৃপক্ষও কোনো মন্তব্য করছে না।

আইনের দৃষ্টিতে এই কাজ অপরাধ

দণ্ডবিধি ১৮৬০:

ধারা ৪২৭: সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ২ বছর জেল।

ধারা ৪৩০: জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল।


ভূমি ব্যবহার ও সংরক্ষণ আইন, ২০০১: সরকারি জমিতে অবৈধ কাজ করলে ২ বছর জেল বা মোটা অংকের জরিমানা।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০): পরিবেশ ক্ষতিতে ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা জেল।

সওজ নীতিমালা: অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রয়েছে।


প্রশাসনের নীরবতা—প্রশ্ন জনমনে

এই সড়ক কাটা হয়েছে যেখানে-সেখানে, এমনকি সরকারি অফিস ও থানা সংলগ্ন এলাকাতেও। তবুও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এটি কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, না কি কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ?

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “সড়কে পাইপ বসানো সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ কে মুঠো ফোনে কল করলে তা রিসিভ হয় নি। 

এ বিষয়ে সওজের নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব প্রাপ্ত শাহরিয়ারের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে, তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নি।

জনগণের দাবিঃ

অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ

রাস্তা কাটা ও নিম্নমানের কাজের তদন্ত

সওজ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ

চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ


এই মুহূর্তে জনগণের অন্যতম প্রধান দাবি—প্রশাসন যেন আইনের প্রয়োগে অনমনীয় ও স্বচ্ছ থাকে। নয়তো এই ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হয়ে জনজীবনকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
JJD_Online

JJD_Online

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT