সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাহমিনা সালেহ-র জীবনীভিত্তিক বই ‘খেরোখাতা’। ৮৭ বছর বয়সী লেখিকা তাহমিনা সালেহ-র এটি প্রথম বই। শনিবার ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সমাজের নানা শ্রেনীর মানুষ উপস্থিত ছিলেন। খেরোখাতা বই নিয়ে আলোচনা করেন সাংবাদিক গবেষক ও শিক্ষক আফসান চৌধুরী, প্রাবন্ধিক কুদরাত এ হুদা এবং লেখক ও গবেক্ষক স্বনন শাহরিয়ার, সংগঠক ও সাহিত্য কর্মী নাজনীন নার্গিস, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উচ্চতর পাঠচক্রের সদস্য রোখসানা মিলি ও মুহিব নেসারসহ আরো অনেকে। তাহমিনা সালেহ নিজেও তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

ডিজাইনার ও সংগঠক খাদিজা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, ব্র্যাকের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর ও লেখিকার ছেলে আসিফ সালেহ, লেখক আসিনুল হক প্রমুখ।
প্রকাশনা সংস্থা বাতিঘর থেকে প্রকাশিত খেরোখাতা বইটি সম্পর্কে গবেষক আফসান চৌধুরী মনে করেন, বইটা স্মৃতিচারণ নয় বরং একটি অসম্ভব সাহসী, নৈতিক, সম্ভ্রান্ত জীবনের ঐতিহাসিক বিবরণ।
আফসান চৌধুরী আরো বলেন, ‘বইটিতে দেখা হয় এমন এক মানুষের সঙ্গে যিনি সংসার করছেন মমতা, সাহস ও শক্তি দিয়ে যাতে জীবনের সকল দায়িত্ব পালিত হয়। লেখিকা ইউনিভার্সিটিতে পড়তে চেয়েছিলেন, সুযোগ হয়নি অথচ তার মনন এতো পরিশীলিত! এর সূত্র কী? এর উত্তর লেখিকার সামাজিক ও ব্যক্তিগত মানস উন্মোচিত হয়েছে এতো সহজ সবল ভাবে যে মনে হয়েছে গোটা বইটা যেন জীবন পরিচালনার একটি সুললিত পাঠ্যক্রম।
প্রাবন্ধিক কুদরত ই হুদা জানান, বইটা ফেসবুকের পোস্ট হিসেবে লেখা হয়েছিল এবং অপরিচিত লেখকের লেখা কেমন হবে বইটি হাতে নিয়ে ভাবছিলেন কিন্তু পেয়েছেন ভদ্র, মার্জিত অথচ আকর্ষণীয় ভাষায় লেখা একটি বই যাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি মূল্যবান ইতিহাস সরলতা এবং সততার সাথে কোনো রকম অতিরিক্ত শব্দ ও বাক্য ব্যয় ছাড়া ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ হয়তো লেখায় কোনো কৃত্রিমতা নেই, জাহির করার তাগাদা নাই ।
আলোচকরা মনে করেন, সহজ সরল সুন্দর বইটি আমাদের পূর্ব প্রজন্মের শিক্ষিত মধ্যবিত্তের এক অসাধারণ দলিল হয়ে থাকবে ।